ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের শুনানি শেষ হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আগামী ২৪ আগস্ট রায়ের জন্য দিন ধার্য করেছেন।
এর আগে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও অন্যান্য বিষয়াদি হাইকোর্টে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনতে ১০ জুন প্রধান বিচারপতি একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন। এই বেঞ্চ ১৪ জুন কার্যক্রম শুরু করে এবং ২৮ জুলাই থেকে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার শুনানি শুরু হয়।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির, মোহাম্মদ ইমাম হোসেন তারেক, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আল আমিন সিদ্দিকী, মাহবুবা তাসনিম আঁখি ও মোছা. রোহানী সিদ্দীকা। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, এস এম শাহজাহান, মোহাম্মদ শিশির মনির, খন্দকার মুশফিকুল হুদা ও এস এম মাসুদ হোসেন দোলন।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির মুক্তকণ্ঠকে জানান, আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে আদালত সোমবার রায়ের জন্য দিন ধার্য করেছেন। দণ্ডিত আসামিরা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নুসরাতকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানি করেন। মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলা তুলে না নেওয়ার কারণে ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। অগ্নিসন্ত্রাসের ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন, যা পরে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এই মামলায় রায় প্রদান করে। রায়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামিরা হলেন সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, মাদ্রাসার ছাত্র নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহি উদ্দিন শাকিল।
নুসরাত হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের পর ডেথ রেফারেন্সের নথিপত্র ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর হাইকোর্টে পৌঁছায়, যা ১৪০/১৯ ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নম্বরভুক্ত হয়। চাঞ্চল্যকর মামলাটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য পেপারবুক তৈরি করা হয়। আসামিরা পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন। এসবের ওপর একসঙ্গে শুনানি শেষে মামলাটি রায় ঘোষণার পর্যায়ে এসেছে।