শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বরে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে শরীয়তপুর-নড়িয়া সড়কের ভোজেশ্বর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় দুই পক্ষের ১২ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জনকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণা বিষয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করেই এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি পুলিশের।

নড়িয়া থানা ও স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছে, শরীয়তপুর–২ আসনে (নড়িয়া-সখিপুর) বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ ৯ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী সফিকুর রহমান ও জামায়াতের প্রার্থী মাহমুদ হোসেন।

ভোজেশ্বর ইউনিয়ন জামায়াতের এক কর্মী ফেসবুকে লেখেন, ‘আজ মঙ্গলবার সকালে বিএনপির এক নারী নেত্রীর গ্রামে গিয়ে না ভোট–এর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন।’ বিষয়টি জানার জন্য ভোজেশ্বরের কয়েকজন বিএনপি ও তাঁদের সহযোগী সংগঠনের নেতারা দুপুরে ভোজেশ্বর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যান। সেখানে নড়িয়া উপজেলা (পশ্চিম) জামায়াতে ইসলামীর আমির তাহের নজরুলের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিএনপি নেতারা বিষয়টি জানতে চান। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। এই ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষের কর্মী–সমর্থকেরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১২ নেতা–কর্মী আহত হন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জনকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁরা হলেন জামায়াতের কর্মী মিজানুর রহমান ও শাহ আলম; আর ভোজেশ্বর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মিজান সিকদার, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন, জপসা ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সবুজ মাদবর, ভোজেশ্বর ইউনিয়ন বিএনপির ৩ নম্বর ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন।

ভোজেশ্বর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মিজান সিকদার মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘আমার বোন টিসিবি–সংক্রান্ত কাজে গ্রামে গিয়েছিলেন। তাঁর সম্পর্কে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী ফেসবুকে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছিলেন। আমরা বিষয়টি জানার জন্য জামায়াতের আমিরের কাছে যাই। এরপর জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এতে আমাদের ১০ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।’

জামায়াতে ইসলামীর নড়িয়া উপজেলা (পশ্চিম) নায়েবে আমির মোর্শেদ খান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের নেতা-কর্মীরা ভোজেশ্বর এলাকায় প্রচারণার কাজ করছিলেন। তখন বিএনপি নেতা-কর্মীরা বাধা দেন। ওই ঘটনা নিয়ে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে তাঁরা আমাদের লোকজনের ওপর হামলা চালান। এতে আমাদের দুই কর্মী আহত হয়েছেন।’

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক খন্দকার রাশেদ আহম্মেদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘একটি মারামারির ঘটনায় ছয়জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের বিভিন্ন স্থানে আঘাত আছে। আমরা চিকিৎসা দিচ্ছি। তাঁদের যা অবস্থা, তাতে এই হাসপাতালেই চিকিৎসা দেওয়া যাবে।’

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাহার মিয়া মুক্তকণ্ঠকে বলেন, জামায়াতে ইসলামীর এক কর্মীর ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দুই পক্ষেরই কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।