মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর একজন ঘনিষ্ঠ সহকারীর সম্পর্ক নিয়ে চলা জল্পনা নিয়ে ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্প বিরক্তি ও হতাশা প্রকাশ করেছেন বলে একটি প্রতিবেদন জানিয়েছে।

গত রোববার মার্কিন সিনেটর জন অসফ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও নাটালি হার্পকে নিয়ে রসিকতা করে বক্তব্য দেন। ডেমোক্র্যাট এ সিনেটরের দাবি, ৮০ বছর বয়সী মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁর ৩৫ বছর বয়সী সহকারী নাটালি হার্পের সঙ্গে এমন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন, যা তাঁকে বিভ্রান্ত করেছে।

পরদিন সোমবার হোয়াইট হাউস বিষয়টিকে ভিত্তিহীন গুজব বলে উড়িয়ে দেয়। তবে সরকারি নানা অনুষ্ঠান ও সফরে ট্রাম্পের পাশে হার্পকে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে। এই ঘনিষ্ঠতাকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক থাকার গুঞ্জনও ছড়ায়। সম্প্রতি সরকারি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের পাশে স্ত্রী মেলানিয়ার টানা অনুপস্থিতিও এ গুঞ্জনকে আরও জোরালো করে তুলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময় ট্রাম্প তাঁকে ‘মানব প্রিন্টার’ নাম দিয়েছিলেন। কারণ, হার্প সব সময় সঙ্গে একটি প্রিন্টার রাখতেন এবং ট্রাম্প পড়তে আগ্রহী হতে পারেন—এমন সংবাদ প্রতিবেদনগুলো সঙ্গে সঙ্গে প্রিন্ট করে দিতেন।

সিনেটর জন অসফ বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট নিজের যে কাজ, সেটা করতে চান না। বরং তিনি নিজের বলরুম তৈরি করতে চান এবং কাতারের আমিরের উপহার দেওয়া অরক্ষিত উড়ন্ত প্রাসাদে (নতুন এয়ারফোর্স ওয়ান) নাটালিকে সঙ্গে নিয়ে ভ্রমণ করতে চান।’

ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ হোয়াইট হাউসের কয়েকজন কর্মকর্তা অসফের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইংল জন অসফকে ‘বিব্রতকর, মেয়েলি স্বভাবের একজন থিয়েটারকর্মী’ বলে কটাক্ষ করেন। তিনি আরও বলেন, ‘জন অসফ সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার চরিত্রে অভিনয় করার ভান করছেন।’

ইংল জোর দিয়ে বলেন, ‘নাটালি হার্প প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দলের সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও কঠোর পরিশ্রমী সহকারীদের একজন। গুরুত্বহীন, ব্যর্থ লোকটি (জন অসফ) কী বললেন, তাতে কারও বিন্দুমাত্র পরোয়া নেই।’

হোয়াইট হাউসের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক স্টিভ চেউং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিনেটর অসফকে ‘রাজনীতির সবচেয়ে বড় “কাকল্ড” (যাঁর স্ত্রী অন্য পুরুষের সঙ্গে পালিয়েছেন) ও ব্যর্থ ব্যক্তি’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের জন্য কাজ করা পরিশ্রমী মানুষদের হেয় না করে, জনের (অসফ) উচিত নিজের অন্তরের দিকে তাকানো এবং নিজেকে প্রশ্ন করা—কেন তিনি একজন দুঃখী ও হতাশাগ্রস্ত মানুষ, যিনি এ দেশকে ঘৃণা করেন। এর কারণ হলো, তিনি একজন উগ্রপন্থী ডেমোক্র্যাট।’

গত সোমবার ওভাল অফিসে একজন নারী সাংবাদিক ট্রাম্পের কাছে জন অসফের মন্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প এ বিষয়ে কোনো কথা বলবেন না বলে জানিয়ে দেন। বরং তিনি ওই সাংবাদিকের প্রতি আক্রমণাত্মক আচরণ করেন এবং অসফকে কটাক্ষ করেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সেমাফোরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি তাদের বলেছেন, ‘(ট্রাম্পের) এ আক্রমণাত্মক পাল্টা প্রতিক্রিয়ার একটি কারণ, ফার্স্টলেডি এসব বিষয় পছন্দ করেন না।’

ওয়ান আমেরিকা নিউজ নেটওয়ার্কের সাবেক উপস্থাপক হার্প কয়েক বছর ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ পরিমণ্ডলে রয়েছেন। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তাঁকে প্রেসিডেন্টের পাশে খুব বেশি দেখা যাচ্ছে না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হোয়াইট হাউস বিষয়টিকে ভিত্তিহীন গুজব বলে উড়িয়ে দিলেও সরকারি নানা অনুষ্ঠান ও সফরে ট্রাম্পের পাশে হার্পকে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে। তাঁদের এই ঘনিষ্ঠতা ঘিরে দুজনের মধ্যে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক থাকার গুঞ্জনও তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি সরকারি নানা অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের পাশে স্ত্রী মেলানিয়ার টানা অনুপস্থিতিও এ গুঞ্জনকে আরও উসকে দিচ্ছে বলে বলা হয়েছে।

হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর সময় তাঁর নির্বাহী সহকারী হিসেবে হার্পকে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিউইয়র্ক টাইমস এর আগে দাবি করেছিল, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলের কেউ কেউ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, চালমান ঘটনাবলি সম্পর্কে ট্রাম্প যে ধারণা পোষণ করেন, তার ওপর হার্পের অযাচিত প্রভাব থাকতে পারে। নিউইয়র্ক টাইমসের ওই প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে আরও বলা হয়, হার্প প্রায়ই ষড়যন্ত্রতত্ত্বে বিশ্বাসী বা সেদিকে ঝুঁকে থাকা সূত্র থেকে ট্রাম্পকে খবর দেন এবং ট্রাম্পের সামনে তাঁকে প্রশংসা করে লেখা সংবাদ প্রতিবেদনগুলো অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন।

ট্রাম্প-নাটালিকে ঘিরে গুঞ্জন ও হার্পের হোয়াইট হাউসে উপস্থিতি নিয়ে আলোচনায় আসে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারের সময় অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও। এতে দেখা যায়, ট্রাম্প হার্পকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করার জন্য লেখা বলে দিচ্ছেন, আর হার্প দ্রুত সেগুলো টাইপ করে তাঁর (ট্রাম্পের) ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশের জন্য প্রস্তুত করছেন।

নিউইয়র্ক টাইমসের দুই সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জোনাথন সোয়ান জুন মাসে প্রকাশিত ‘রেজিম চেঞ্জ’ বইয়ে দাবি করেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময় হার্প নিজেও ট্রাম্পকে অত্যন্ত প্রশংসাসূচক চিঠি লিখেছিলেন।

প্রেসিডেন্টের সঙ্গে হার্পের ঘনিষ্ঠতার গুঞ্জন নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন সম্পর্কে তিনি এখনো কোনো মন্তব্য করেননি। এ বিষয়ে মন্তব্য করার জন্য হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। মন্তব্যের জন্য টেলিগ্রাফ থেকে মেলানিয়া ট্রাম্পের কার্যালয়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে।