যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি এ কিসিঞ্জারের স্ত্রী ন্যান্সি কিসিঞ্জার মারা গেছেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার কানেটিকাট অঙ্গরাজ্যের সাউথ কেন্টে নিজ বাড়িতে তাঁর মৃত্যু হয়। বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক কূটনীতির দীর্ঘ ও ব্যস্ত সময়ে প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে স্বামীর পাশে ছিলেন ন্যান্সি। ১৯৭৪ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। রাজনৈতিক বিচক্ষণতা ও বৈশ্বিক বিষয়ে গভীর জ্ঞানসম্পন্ন ন্যান্সি কিসিঞ্জার স্বামীর সুনাম রক্ষায় অত্যন্ত সচেতন ছিলেন। বিয়ের পর থেকে তিনি হেনরি কিসিঞ্জারের সঙ্গে বিভিন্ন কূটনৈতিক সফরে বিশ্বের নানা দেশ ভ্রমণ করেন।
১৯৭৭ সালে হেনরি কিসিঞ্জার দায়িত্ব ছাড়ার পরও তাঁরা ওয়াশিংটনের অন্যতম সুপরিচিত দম্পতি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। রাষ্ট্রীয় নৈশভোজ, বিভিন্ন দূতাবাসের অনুষ্ঠান এবং রিপাবলিকানদের হোয়াইট হাউসের সংবর্ধনায় তাঁদের নিয়মিত উপস্থিতি ছিল। এছাড়া নিউইয়র্ক শহরের জাদুঘরের উদ্বোধন, বিল ব্লাস ও অস্কার দে লা রেন্তার ফ্যাশন শো এবং বিভিন্ন দাতব্য তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠানেও তাঁরা অংশ নিতেন।
১৯৮০-এর দশকের শুরু থেকে সামাজিক ব্যস্ততা কমিয়ে অবসর কাটাতে শুরু করেন এই দম্পতি। সাউথ কেন্টে তাঁদের ৩০০ একরের একটি বাড়িতে গ্রীষ্মকাল ও সাপ্তাহিক ছুটি কাটাতেন তাঁরা।
ন্যান্সি কিসিঞ্জারের ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে এক বন্ধু দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছিলেন, ‘যাঁরা তাঁকে ভালোভাবে চেনেন, তাঁদের কাছে মিসেস কিসিঞ্জার একজন বুদ্ধিমতী, দক্ষ ও আন্তরিক নারী। তাঁর মধ্যে দারুণ আকর্ষণ ও ভালো রসবোধ ছিল। সততার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন আপসহীন।’
তবে স্বামীর বিতর্কিত ভাবমূর্তির কারণে ন্যান্সি কিসিঞ্জারের জাঁকজমকপূর্ণ জীবন সম্পূর্ণ ঝামেলামুক্ত ছিল না।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৯ নভেম্বর ১০০ বছর বয়সে মারা যান হেনরি কিসিঞ্জার। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী মার্কিন কূটনীতির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হেনরি কিসিঞ্জার ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ও জেরাল্ড আর ফোর্ডের সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমন এবং চীনের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। এছাড়া ১৯৭৩ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ অবসানে মধ্যপ্রাচ্যে তাঁর ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা ছিল। প্যারিস শান্তিচুক্তির আলোচনার মাধ্যমে ভিয়েতনাম যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণের অবসান ঘটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় ভিয়েতনামের কূটনীতিক লে দুক তো’র সঙ্গে যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি।