টানা প্রায় সাড়ে ৪৩ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর রাজবাড়ী-ফরিদপুর রুটে বাস চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে এই রুটে বাস চলাচল শুরু হলে দুই জেলার যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তবে গোল্ডেন লাইন পরিবহনের চলাচল নিয়ে রাজবাড়ীর পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে সৃষ্ট বিরোধের স্থায়ী সমাধান এখনও হয়নি; প্রশাসনের আশ্বাসে আপাতত বাস চলাচল চালু রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত মঙ্গলবার দুপুর ১২টার পর গোল্ডেন লাইন পরিবহনের বাস চলাচল নিয়ে বিরোধের জেরে এই রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের সম্মুখীন হন এবং অনেকে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে মাহেন্দ্র ও অটোরিকশার মতো ছোট যানবাহনে যাতায়াত করতে বাধ্য হন।

রাজবাড়ী জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক সুকুমার ভৌমিক বলেন, "বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বাস চলাচল শুরু হয়েছে। গোল্ডেন লাইন নিয়ে বিরোধের স্থায়ী সমাধান এখনও হয়নি। প্রশাসনের আশ্বাসে বাস চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।"

তিনি আরও জানান, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাজবাড়ীর ওপর দিয়ে গোল্ডেন লাইন পরিবহনের চারটি ট্রিপ চলাচলে তাদের কোনো আপত্তি নেই, তবে এর বেশি ট্রিপ চলতে দেওয়া হবে না। মঙ্গলবারের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ফরিদপুরে রাজবাড়ীর একটি বাসের গ্লাস ভাঙচুর, চালক ও হেলপারকে মারধর এবং ১৭ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "প্রশাসন বাস চলাচলের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়ায় তারা বাস চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।"

পরিবহন মালিক গ্রুপ সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজবাড়ীর ওপর দিয়ে গোল্ডেন লাইন পরিবহনের বাস চলাচল নিয়ে বিরোধ শুরু হয়। সে সময় ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে রাজবাড়ীর ওপর দিয়ে গোল্ডেন লাইনের চারটি ট্রিপ চলাচলের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যা উভয়পক্ষ মেনে নিয়েছিল।

মালিক গ্রুপের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গোল্ডেন লাইন কর্তৃপক্ষ পূর্বের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ট্রিপের সংখ্যা বাড়াতে থাকে। কোনো কোনো দিন রাজবাড়ীর ওপর দিয়ে ২৮টি পর্যন্ত ট্রিপ চালানো হয়েছে বলে তারা দাবি করেন, যা স্থানীয় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, মঙ্গলবার সকালে চারটি বাসের পর অতিরিক্ত বাস চলাচলে স্থানীয় শ্রমিকরা বাধা দিলে ফরিদপুরে রাজবাড়ীর বাস আটকে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় রেখা পরিবহনের একটি বাস ভাঙচুর এবং শ্রমিকদের মারধরের অভিযোগ ওঠে।

বিষয়টি নিয়ে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, "দুপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে। আপাতত বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বসে বিরোধের স্থায়ী সমাধান করা হবে।"