জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত শাহরিয়ার হোসেনের বাবা মো. মনির হোসেন দাবি করেছেন, তাঁর ছেলের মৃত্যু সনদপত্র দিতে অস্বীকার করেছিলেন চিকিৎসক। এমনকি মরদেহটি সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে নিয়ে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে কেউ জিজ্ঞেস করলে গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি বলতেও নিষেধ করা হয়েছিল।

আজ বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাক্ষীর জবানবন্দিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। রাজধানীর ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন মোহাম্মদপুরের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মনির হোসেন।

জবানবন্দিতে মনির হোসেন জানান, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরে আন্দোলনে অংশ নেন তাঁর বড় ছেলে শাহরিয়ার হোসেন। সেখানে পুলিশ ও আওয়ামী ক্যাডাররা আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরবর্তীতে তাঁর দুই ভাগনের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন যে, শাহরিয়ার গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। দ্রুত তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং চিকিৎসকের পরামর্শে পরে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শাহরিয়ারকে মৃত ঘোষণা করেন।

ছেলের মৃত্যুর জন্য আওয়ামী লীগসহ ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ অনেকের প্রতি দায়ারোপ করেন মনির হোসেন।

উল্লেখ্য, এই মামলায় মোট ২৮ জন আসামি। তাঁদের মধ্যে চারজন বর্তমানে গ্রেপ্তার অবস্থায় রয়েছেন। তাঁরা হলেন আনসারের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ ওমর ফারুক, মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সাবেক সহসভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেন এবং যুবলীগ কর্মী কে এম ফজলে রাব্বী।

মামলার বাকি ২৪ জন আসামি পলাতক। তাঁদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, পুলিশ সদর দপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার এবং মোহাম্মদপুর অঞ্চলের সাবেক এডিসি রৌশানুল হক সৈকত 등이 রয়েছেন।