লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় ওমানপ্রবাসীর স্ত্রীর ওপর হামলা এবং বসতবাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে চলবলা ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর আগে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে হাতীবান্ধা উপজেলার নওদাবাস এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে ওইদিন সকালেই জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শাহ আলমের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়।

লালমনিরহাট জেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. এনামুল হক বলেন, "দলীয় নীতি-আদর্শ, শৃঙ্খলা ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে শাহ আলমকে বহিষ্কার করা হয়েছে।"

মামলার এজাহার অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের দুহুলী গ্রামে ছাগলের ঘাস খাওয়া নিয়ে ওমানপ্রবাসী মান্নানের পরিবারের সঙ্গে শাহ আলমের বিরোধ তৈরি হয়। একপর্যায়ে শাহ আলম ও তার সহযোগীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে মান্নানের বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। এসময় বাধা দিতে গেলে মান্নানের স্ত্রী রোজিনা বেগমকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়।

আঘাতপ্রাপ্ত রোজিনা বেগম গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরবর্তীতে তিনি বাদী হয়ে শাহ আলমকে প্রধান আসামি করে তিনজনের বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সিদ্দিক বলেন, "অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত করে শাহ আলমকে হাতীবান্ধা উপজেলার নওদাবাস এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।"

গ্রেপ্তারকৃত শাহ আলম উপজেলার দুহুলী এলাকার রমজান আলীর ছেলে এবং তিনি চলবলা ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।