আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। এই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন সামনে রেখে সংসদ সদস্যদের ভোট প্রদানের প্রক্রিয়া সহজ করতে ৯ দফা নির্দেশনা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

নির্বাচন কমিশনের ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ২০২৬’ শীর্ষক নির্দেশনায় পরিচয়পত্র প্রদর্শন, ভোটদানের সময়সীমা, ব্যালট সংগ্রহ ও জমা এবং ভুল সংশোধনের উপায়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে সংসদ সদস্যদের সংসদ কক্ষে প্রবেশ করে ব্যালট সংগ্রহ ও ভোট প্রদান করতে হবে। এই নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচনি কর্মকর্তারা ভোট গ্রহণের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। সংসদ কক্ষে প্রবেশের সময় সংসদ সচিবালয় থেকে সরবরাহ করা পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক।

ভোটদান প্রক্রিয়ায় সংসদ সদস্যরা নিজ আসনে বসার পর সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে নাম ও নির্বাচনি সংখ্যা সংবলিত ব্যালট সংগ্রহ করবেন। এরপর নির্ধারিত স্থানে পূর্ণ নাম লিখে তা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ফেরত দিতে হবে। ব্যালটের অভ্যন্তরীণ অংশে পছন্দের প্রার্থীর নামের বিপরীতে নির্দিষ্ট স্থানে পূর্ণ নাম লিখে ভোট দিতে হবে এবং শেষে ব্যালটটি সংসদ কক্ষের সংলগ্ন নির্দিষ্ট ব্যালট বাক্সে রাখতে হবে।

ব্যালট লেখার সময় ভুল হলে তা বাক্সে ফেলার আগে নির্বাচনি কর্মকর্তার কাছে নিয়ে যেতে হবে, যাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এছাড়া রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিধিমালা, ১৯৯১-এর ১১(২) বিধি অনুযায়ী, ভোট প্রদানের জন্য সংসদ সদস্যদের বৈঠকে কোনো ধরনের নির্বাচনি প্রচারণা চালানো বা এ সংক্রান্ত বক্তব্য কিংবা প্রস্তাব দেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ভোটদানকালে কোনো রাজনৈতিক সমস্যা দেখা দিলে চিফ হুইপ ও বিরোধী দলের চিফ হুইপের পরামর্শ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যালটে অবশ্যই ভোটারের পূর্ণ নাম লেখার নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়।

বিকেল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই গণনা শুরু হবে। মোট ভোটদাতার সংখ্যা, বৈধ ও বাতিল ব্যালটের হিসাব এবং অব্যবহৃত ব্যালটের সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। এরপর প্রার্থীদের প্রাপ্ত বৈধ ভোট গণনা করে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করবেন নির্বাচন কর্মকর্তা। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন থেকে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে।

উল্লেখ্য, অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করার পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এবারই প্রথম একাধিক প্রার্থীর মধ্যে ব্যালটের মাধ্যমে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এবারের নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ, বীর বিক্রম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।