বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট দিয়ে ২২ বছর পর টেস্ট ফিরেছে অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য নর্দার্ন টেরিটরির ডারউইনে। সাড়ে তিন দিনের লড়াইয়ে জমে ওঠে ম্যাচটি। টেস্ট আয়োজনের সাফল্য ঘিরে এবার ডারউইনে আরও আন্তর্জাতিক ম্যাচ ধরে রাখার প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে নর্দার্ন টেরিটরির ক্রিকেট কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় ক্রিকেট পরিচালকেরা বলছেন, বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিরিজভিত্তিক টেস্ট আয়োজনের পর ডারউইন নিয়মিত আন্তর্জাতিক ভেন্যু হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। মারারা স্টেডিয়ামের ড্রপ-ইন পিচের পারফরম্যান্সও বেশ প্রশংসা পেয়েছে। ম্যাচ রেফারি রিচি রিচার্ডসনের কাছ থেকে পূর্ণ নম্বর পাওয়ার বিষয়েও তাদের মধ্যে আশাবাদ রয়েছে।

নর্দার্ন টেরিটরি ক্রিকেটের প্রতিনিধি গ্যাভিন ডাভি ক্রিকেট ডট কম ডট এইউকে বলেছেন, ‘ম্যাচটা সত্যিই দুর্দান্ত ছিল—এটা অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তাই আমি এখানে আরও বেশি টেস্ট ক্রিকেট দেখতে চাই।’

তবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান টড গ্রিনবার্গ কয়েক দিন আগেই জানান, অস্ট্রেলিয়ার দূরবর্তী উত্তরাঞ্চলে টেস্ট ম্যাচ আয়োজন করা বেশ ব্যয়বহুল। একই সঙ্গে তারা আরও বেশি ওয়ানডে-টি টুয়েন্টি আয়োজনের আগ্রহের কথাও বলেছেন। এর বিপরীতে নর্দার্ন টেরিটরি ক্রিকেটের প্রতিনিধি ডাভি বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টেস্টে দর্শকদের আগ্রহ দেখে এই সংস্করণের ম্যাচও আয়োজন করা সম্ভব—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

ডারউইন টেস্টে ১৫ হাজারের বেশি দর্শক মাঠে এসেছিলেন। ডাভি মনে করছেন, এই উপস্থিতি টেরিটরি সরকারের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ পাওয়ার পথ খুলে দিতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করতে চাই ম্যাচটা এতটাই ভালো হয়েছে যে এই ধরনের (দর্শক কম হওয়া বা খরচ–সংক্রান্ত) সমস্যাগুলো সমাধান করা সম্ভব।’

গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুটি টি-টুয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচেও ইতিবাচক সাড়া মিলেছিল নর্দার্ন টেরিটরিতে। এরই মধ্যে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া আগামী বছরের আগস্টে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি ওয়ানডে আয়োজনের জন্য ডারউইনকে ভেন্যু হিসেবে নির্ধারণ করেছে।

ভবিষ্যতে আরও বেশি ম্যাচ আয়োজনের প্রত্যাশা জানিয়ে ডাভি বলেন, ‘২০২৭ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচগুলো শেষ হওয়ার পর আমি আশা করি আমরা নর্দার্ন টেরিটরি সরকার ও সিএর সঙ্গে এক টেবিলে বসে আলোচনা করতে পারব, এফটিপি (ফিউচার ট্যুরস প্রোগ্রাম) এখন দেখতে কেমন ও আগামী তিন বছর কেমন হতে পারে।’

এরপর নিজেদের লক্ষ্য নিয়েও কথা বলেন ডাভি। তিনি বলেন, ‘আমাদের সেরা স্বপ্ন হবে এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছানো, যেখানে টানা ছয় বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অনুষ্ঠিত হবে, যা অতীতের পরিস্থিতির চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি চিত্র হবে।’