দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হতে যাচ্ছে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ। আগামীকাল জাতীয় সংসদ কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। এই লড়াইয়ে মূল প্রতিপক্ষ হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ, বীর বিক্রম।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, উভয় প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো প্রার্থী প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় তপশিল অনুযায়ী আগামীকাল ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ ভবনের নির্ধারিত কক্ষে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদ সদস্যরা তাদের মূল্যবান ভোট প্রদান করবেন।

এই নির্বাচনে ভোটার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জাতীয় সংসদের সদস্যরা। বিশেষ ব্যালট পেপারে স্বাক্ষর এবং পছন্দক্রমের মাধ্যমে তারা ভোট দেবেন। ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হলে সংসদ কক্ষেই ব্যালট গণনা করা হবে এবং নির্বাচনি কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সংসদীয় হিসাব অনুযায়ী, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকায় কোনো সংসদ সদস্য দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন না। ফলে সংসদের সদস্য সংখ্যার বিন্যাসই এই নির্বাচনের জয়-পরাজয়ের মূল নির্ণায়ক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংরক্ষিত নারী আসনসহ সংসদের মোট ভোটার সংখ্যা ৩৪৯ জন। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে রয়েছে দলটির শক্তিশালী সমর্থন ও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা। অন্যদিকে, বিরোধী জোটের প্রার্থী অলি আহমদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও ১১-দলীয় ঐক্য।