এক মাসের মধ্যে স্বাধীন তথ্য কমিশন গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, আগের তথ্য কমিশনগুলো নামকাওয়াস্তে ছিল। এবার একটি কার্যকর ও স্বাধীন তথ্য কমিশন গঠন করা হবে। তথ্য দিতে কোনো কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠান অনীহা দেখালে প্রতিকারের ব্যবস্থাও নেবে কমিশন।
আজ বুধবার বেলা তিনটার দিকে রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা এ কথা বলেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, তথ্য পেতে সমস্যা হতে পারে বলেই তথ্য কমিশন করা হয়েছে। একটি সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তারা সভাও করেছে। তারা নিজেদের মতো করে নাম প্রস্তাব করবে। এরপর চূড়ান্তভাবে কমিশনের সদস্য নির্বাচন করা হবে। এক মাসের মধ্যে তথ্য কমিশন গঠন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, কমিশন আইনের মাধ্যমে গঠিত একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। সেখানে যাঁরা থাকবেন, সরকার চাইলেই তাঁদের অপসারণ করতে পারবে না। বিচারকদের যেভাবে অপসারণ করা হয়, সেভাবেই কমিশনের সদস্যদের অপসারণের বিধান থাকবে। ভবিষ্যতে তথ্য পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে কমিশন নিজ থেকেই নির্দেশনা দেবে।
নিজে বিভিন্ন অপতথ্যের শিকার হচ্ছেন অভিযোগ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘মেইনস্ট্রিম মিডিয়াতেই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ডিজইনফরমেশন হচ্ছে। তাঁকে নিয়েও ডিজইনফরমেশনের কার্ড বানানো হচ্ছে। অনেক সময় কোনো বক্তব্যের একটি বাক্য তুলে ধরে আশপাশের বক্তব্য বাদ দেওয়া হচ্ছে।’ এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
‘জ্বালানিসংকট বর্তমান সরকারের ঘাড়ে এসে পড়েছে’
বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, আগের সরকারের (আওয়ামী লীগ) সময়ের পাপের ফল এখন জ্বালানিসংকট হিসেবে বর্তমান সরকারের ঘাড়ে এসে পড়েছে। এ সংকটের জন্য বর্তমান সরকারের ন্যূনতম কোনো দায় নেই। মূল সংকট সরবরাহে। সরবরাহে সংকট মেটাতে মাঠ প্রশাসনের তেমন কিছু করার নেই। তবে সংকট কেন হয়েছে, সেই বাস্তবতা মানুষকে বোঝানো এবং সত্য কথা বলা মাঠ প্রশাসনের দায়িত্ব।
সরকারের জবাবদিহির বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, প্রতি ছয় মাস পরপর বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজ মূল্যায়ন করা হবে। পাঁচ বছর পর জনগণের কাছে যেতে হবে এবং কোন ক্ষেত্রে কী করা হয়েছে, তা জনগণকে জানাতে হবে। ভবিষ্যতে দেশে একটি কার্যকর নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, জনগণের ভোটের ব্যবস্থা ঠিক থাকলে সরকারের মাথায় সব সময় জনগণের কথা রাখতে হয়। জনগণ বর্তমান সরকারকে বড় ধরনের বিজয় দিয়েছে। সরকার জনগণের সেই আস্থার প্রতিশ্রুতি যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে চায়। মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, রাষ্ট্র বিভিন্ন জেলা–উপজেলায় যোগ্য মানুষদের নিয়োগ দিয়েছে। তাঁরা পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবেন। সব ক্ষেত্রে কেন্দ্রের অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে না।
এর আগে দুপুরে নজরুল–বর্ষ উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা আয়োজন নিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তথ্য উপদেষ্টা। এতে সভাপতিত্ব করেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম। এ সময় রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, বিভাগের আট জেলার জেলা প্রশাসক, জেলা কালচারাল কর্মকর্তা ও শিক্ষা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।