ফরিদপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনে পৃথকভাবে শোভাযাত্রা ও সমাবেশ করেছে দুই পক্ষ। বুধবার দুপুর ও বিকেলে আলাদা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে কর্মীরা কর্মসূচি সম্পন্ন করেন।
ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা ও সালথা) আসনের সংসদ সদস্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এবং ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফের অনুসারীরা পৃথকভাবে এসব কর্মসূচি পালন করেন।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হোসেন মুক্তকণ্ঠকে জানান, ‘জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব শাহরিয়ারকে আমি প্রস্তাব দিয়েছিলাম সকলে মিলে একসাথে অনুষ্ঠান করার। শাহারিয়ার জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য নায়াব ইউসুফ ছাড়া তিনি কোনো অনুষ্ঠান করবেন না। তখন আমি প্রস্তাব দিই, নায়াব আপার সাথে আমার প্রতিমন্ত্রীকেও অতিথি করি। কিন্তু প্রতিমন্ত্রী ফরিদপুর সদরের সংসদ সদস্য নয়, বিধায় এ প্রস্তাব নাকচ করে দেন শাহরিয়ার।’
এ বিষয়ে শাহরিয়ার হোসেন বলেন, ‘গেস্ট করা নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় একসাথে অনুষ্ঠান করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। প্রধান অতিথি হিসেবে আমাদের এক গেস্ট পছন্দ ছিল, আবার ওদের আরেক গেস্ট পছন্দ ছিল। আমরা সদর আসনের এমপিকে নিয়ে প্রোগ্রাম করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তারা রাজি হন নাই।’
নিয়াব ইউসুফের অনুসারীরা দুপুর ১২টার দিকে শহরের ব্রহ্মসমাজ সড়কে সমবেত হয়ে শোভাযাত্রা করেন। শোভাযাত্রাটি ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের মোড়, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে দিয়ে মুজিব সড়ক ধরে জনতা ব্যাংকের মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। এতে নেতৃত্ব দেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব শাহরিয়ার হোসেন। ব্যানারের বাঁ দিকে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া, তারেক রহমান এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এস এম জিলানী ও সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসানের ছবি ছিল। ডান দিকে ছিল নায়াব ইউসুফ, তাঁর বাবা চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ এবং ও ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলামের ছবি।
পরে সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এ কে এম কিবরিয়া।
অন্যদিকে শামা ওবায়েদের অনুসারীরা বিকেল পাঁচটার দিকে শোভাযাত্রা বের করেন। শোভাযাত্রাটি ফরিদপুর মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট স্কুলের সামনে থেকে শুরু হয়ে মুজিব সড়ক ধরে জেলা কারাগার, ফরিদপুর পৌরসভা এবং ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে দিয়ে জনতা ব্যাংকের মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। এ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হোসেন। শোভাযাত্রার ব্যানারে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া, তারেক রহমান, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ছবি ছিল। শোভাযাত্রায় ছয় নেতার বড় আকৃতির ছবি বহন করা হয় এবং এর মধ্যে শামা ওবায়েদের ছবিও ছিল।
পরে সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেছ আলী।