‘আমার বয়স কম, আমি ভুল করে ফেলেছি।’ ১৫ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার পর নিজের দায় স্বীকার করে অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন ফুটবলার আল-আমিন।
আজ মুক্তকণ্ঠকে মুঠোফোনে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় রেফারির গায়ে হাত দেওয়ার ঘটনাকে ভুল হিসেবে মেনে নিয়েছেন এই স্ট্রাইকার। নিষেধাজ্ঞার চিঠি পাওয়া নিয়েও তাঁর কিছু জটিলতা ছিল বলে জানান তিনি। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে জাতীয় দলের হয়ে খেলতে না পারলেও ক্লাব ফুটবল চালিয়ে যেতে চান বলেও জানান আল-আমিন।
মালদ্বীপ ফুটবলের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশটি আয়োজন করে ‘ডায়মন্ড জুবিলি ফুটবল টুর্নামেন্ট’। গত ৭ জুন রাতে স্বাগতিক মালদ্বীপের বিপক্ষে বাংলাদেশ অলিম্পিক দলের ম্যাচটি নিয়েই অভিযোগ-ঘটনার সূত্রপাত। ম্যাচ চলাকালে রেফারির একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়তে থাকে, পরে তা হাতাহাতি ও মারামারিতে গড়ায়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে বাংলাদেশের আল-আমিন এবং মিরাজুল ইসলাম লাল কার্ড দেখেন। কার্ড দেখার পর নিজের মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পেরে আল-আমিন রেফারিকে ধাক্কা দেন—এই ঘটনায় তাঁকে ১৫ ম্যাচ নিষিদ্ধ করে ফিফা। তবে এই শাস্তির বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ রয়েছে।
আপিল করবেন কি না, সে বিষয়ে বাফুফের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে চান আল-আমিন। তিনি বলেন, ‘এখনো কিছু বলতে পারছি না। আপিলের সুযোগ তো আছেই। আমি ফেডারেশনে যাব। তাদের সঙ্গে কথা বলে তারপর সিদ্ধান্ত নেব।’
নিষেধাজ্ঞার চিঠি পাওয়ার সময় নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন আল-আমিন। তাঁর ভাষায়, ‘ফেডারেশনের তো একটা চিঠি থাকে। ওটা আমাকে ১২ তারিখে দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু ওই চিঠি আমি ১৮ তারিখে পাইছি।’
১৫ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা জাতীয় দলের হয়ে খেলার ক্ষেত্রে কার্যকর হলেও ক্লাব ফুটবলে এর প্রভাব পড়বে না বলে জানান এই ফরোয়ার্ড। নতুন মৌসুমে আবাহনীর হয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতির কথাও বলেন তিনি। ‘ক্লাব ফুটবলে সমস্যা নেই। আবাহনীতে আছি। আপাতত তাদের হয়েই খেলব।’
ঘটনার বিষয়ে নিজের উপলব্ধিকেও গুরুত্ব দেন আল-আমিন। রেফারির গায়ে হাত দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি এখন বুঝতে পারছি যে এটা অন্যায় হয়েছে। আসলে এই কাজটা আমার করা উচিত হয় নাই।’
বাংলাদেশ জাতীয় দল বছরে সাধারণত ৭-৮টির বেশি ম্যাচ খেলে না। ফলে ১৫ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশের হয়ে প্রায় দুই বছর মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে এই খেলোয়াড়কে।
আল-আমিনের জন্য এটি প্রথম নিষেধাজ্ঞা নয়। ২০২০-২১ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘে খেলেছিলেন আল-আমিন। ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগে আরামবাগ নিষিদ্ধ হওয়ার পর কয়েকজন ফুটবলারের সঙ্গে তাঁকেও এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।