সখীপুরে এসএসসি পরীক্ষায় পাসের আনন্দে মিষ্টি না কিনে এক সহপাঠীর ক্যানসার আক্রান্ত মায়ের চিকিৎসার জন্য ৪০ হাজার টাকা সংগ্রহ করেছিলেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। তাদের এই মানবিক উদ্যোগের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অসুস্থ ওই নারীর চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল আলম গতকাল মঙ্গলবার রাতে এ তথ্য প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, উপজেলার কালিদাস কলতান বিদ্যানিকেতনের শিক্ষার্থীদের মানবিক উদ্যোগের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এসেছে।

ইউএনও বলেন, চলতি বছর বিদ্যালয়টি থেকে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া শিক্ষার্থী নাঈম শিকদারের মা লাইলী বেগমের চিকিৎসায় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী শনিবার স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের মাধ্যমে নাঈমের পরিবারের কাছে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কথা রয়েছে।

শিক্ষার্থী নাঈম সিকদার জানান, ইউএনও ফোন করে বিষয়টি তাকে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তার মা লাইলী বেগম বর্তমানে সিরাজগঞ্জের খাজা ইউনূস আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। প্রধানমন্ত্রী তাঁদের পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং চিকিৎসায় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন—এ কথা শুনে তিনি আনন্দিত।

শিক্ষার্থীদের এমন মানবিক উদ্যোগে আমি আপ্লুত। তাদের উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রীর নজরে গিয়ে সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়ায় নাঈমের পরিবার ও বিদ্যালয়ের সবাই আনন্দিত।

আমিনুল ইসলাম, কালিদাস কলতান বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক

কয়েক মাস আগে নাঈমের বাবা আবদুল সিকদার ধারদেনা করে কাতারে যান। সেখানে এখনো কোনো কাজ পাননি বলে পরিবারটির পক্ষ থেকে জানা যায়। এর মধ্যে তাঁর মায়ের শরীরে ক্যানসার শনাক্ত হওয়ায় পরিবারটি দিশাহারা হয়ে পড়ে। সহপাঠীদের পর প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতার আশ্বাসে পরিবারটি আবারও নতুন করে সাহস পাচ্ছে বলে শিক্ষার্থীরা জানান।

এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের কয়েক দিন আগে নাঈমের মায়ের শরীরে ক্যানসার শনাক্ত হয়। চিকিৎসার জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন হলেও আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারটির পক্ষে তা জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় বিষয়টি জানার পর নাঈমের সহপাঠীরা সিদ্ধান্ত নেন, এসএসসি পাসের আনন্দে মিষ্টিমুখ না করে সেই টাকা বন্ধুর মায়ের চিকিৎসায় দেওয়া হবে।

১৬ আগস্ট নাঈমের দাদা আবদুস সাত্তার সিকদারের হাতে ৪০ হাজার টাকা তুলে দেয় তার সহপাঠীরা। পরে বিদ্যালয়ের অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরাও এ উদ্যোগে যুক্ত হন।

এসএসসি পাস করা শিক্ষার্থী ইমরান, জাহিদ ও আপন সেদিন বলেন, পাস করার আনন্দে মিষ্টি খাওয়ার চেয়ে সহপাঠীর মায়ের পাশে দাঁড়াতে পেরে তাদের বেশি ভালো লাগছে।

বিদ্যালয়ের পরিচালক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের এমন মানবিক উদ্যোগে আমি আপ্লুত। তাদের উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রীর নজরে গিয়ে সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়ায় নাঈমের পরিবার ও বিদ্যালয়ের সবাই আনন্দিত।’