চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ মন্দিরে তীর্থযাত্রীদের সঙ্গে দুটি বানরের এক অদ্ভুত বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। ভূমি থেকে প্রায় ১ হাজার ২০০ ফুট উচ্চতায় পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত এই মন্দিরে বানর দুটি দীর্ঘ দিন ধরে অবস্থান করছে। তীর্থযাত্রীরা তাদের ফল খেতে দিলে বানর দুটি পরম যত্নে তা গ্রহণ করে এবং কিছুটা দূরে গিয়ে খেতে শুরু করে। গত শনিবার দুপুরে মন্দিরে এই দৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।
ঘণ্টাব্যাপী মন্দির প্রাঙ্গণে পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, শতাধিক তীর্থযাত্রী পূজা শেষে সেখানে অবস্থান করছিলেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই বানর দুটিকে বিভিন্ন ধরনের ফল খেতে দেন। বানরগুলো খুব কাছে এসে হাত থেকে ফল নিয়ে মন্দিরের ছাদে বা পাশের গাছে বসে তা খেয়ে নেয়। তবে ছবি তোলার ক্ষেত্রে তাদের আচরণ ভিন্ন। মুঠোফোন বের করলে তারা ছবি তোলার জন্য নিজ থেকে কাছে এলেও, ছবি তোলার পর বিনিময়ে ফল বা খাবার না দিলে তারা ক্ষিপ্ত হয়। এতে দর্শনার্থীদের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে অকারণে তারা কাউকে বিরক্ত করে না।
তীর্থযাত্রী রূপনা দাস খুব কাছ থেকে বানরটির ছবি তোলার সময় জানান, "তার হাত থেকে যে বানরটি আপেল নিয়েছে, সেটি খুব কাছে বসে ছিল। তিনি ছবি তোলার জন্য ভয়ে ভয়ে আরও কাছে যান; কিন্তু বানরটি চুপ করে বসে আছে। অথচ কিছুক্ষণ আগে এক তীর্থযাত্রী ছবি তুলতে গেলে তাকে ভয় দেখায়। মূলত তিনি কোনো খাবার দেননি। তাই তাকে ভয় দেখিয়েছে।"
মন্দিরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ পাল মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "বানর দুটি দীর্ঘদিন ধরে মন্দিরেই থাকে। প্রতিদিন এভাবেই তীর্থযাত্রীদের কাছ থেকে হাত পেতে ফল গ্রহণ করে। মূলত আশপাশের বাগানে খাদ্যসংকট থাকায় মন্দিরের কাছেই বানরগুলো অবস্থান নিয়েছে। কোনো তীর্থযাত্রীকে অকারণে বিরক্ত করে না। তীর্থযাত্রীরা ভয় দেখালে রেগে যায়।"
মন্দিরের পূজারিদের মতে, শুষ্ক মৌসুমে খাবারের সংকট দেখা দিলে দলবেঁধে অনেক বানর এখানে চলে আসে, তবে এই দুটি বানর সব সময়ই মন্দিরে থাকে। তারা পুরো প্রাঙ্গণে ঘুরে বেড়ালেও মন্দিরের ভেতরে প্রবেশ করে না।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চন্দ্রনাথ পাহাড়ের আশপাশের বিস্তীর্ণ গভীর বনে বাঁশ, কলাসহ নানা লতাগুল্ম জন্মায়। এই প্রাকৃতিক পরিবেশে পাখি, বানর, বন্য শূকর, হরিণ, অজগর ও সাপের মতো অসংখ্য বন্য প্রাণীর বসবাস। তবে বানররাই মানুষের সবচেয়ে কাছাকাছি আসে। বনের খাদ্যের অভাব দেখা দিলে তারা কলাসহ বিভিন্ন খাবারের খোঁজে লোকালয়ে এবং পাহাড়ের বিভিন্ন অংশে গড়ে ওঠা চা-দোকানের আশপাশে চলে আসে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা এই মন্দির থেকে তাকালে একদিকে ফটিকছড়ির ভুজপুর শহর এবং পশ্চিমে সন্দ্বীপ চ্যানেল ও সন্দ্বীপ দেখা যায়। এছাড়া মন্দিরের নিচে বিরূপাক্ষ, স্বয়ম্ভূনাথ ও বিশ্বনাথ মন্দিরের অবস্থান এই পাহাড়ের সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।