জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে (জামুকা) বীরাঙ্গনা হিসেবে অন্তর্ভুক্তির জন্য ২২২টি এবং মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য ৬১৫টি আবেদন শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। মঙ্গলবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এই তথ্য জানানো হয়।
সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পরিচিতি পর্ব শেষে ওই বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তরের কার্যক্রম তুলে ধরা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, বৈঠকে জানানো হয় যে, ২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৪৬৫ জন অমুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিলের সুপারিশ করেছে জামুকা। এখন পর্যন্ত এই কাউন্সিলের ১০৩টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়ন ও প্রকাশিত গেজেট যাচাই-বাছাই সংক্রান্ত অনিষ্পন্ন কাজের খতিয়ান উপস্থাপন করা হয়। সেখানে জানানো হয়, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্তির ৬১৫টি আবেদন শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে এবং বীরাঙ্গনা হিসেবে অন্তর্ভুক্তির জন্য অপেক্ষমাণ আছে ২২২টি আবেদন। এছাড়া জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে গঠিত উপকমিটির যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সুপারিশপ্রাপ্ত ১০৪ জন মুক্তিযোদ্ধার নাম গেজেটভুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। পাশাপাশি ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে আসা ২০২টি আবেদন শুনানির জন্য অপেক্ষমাণ।
কমিটির সভাপতি মো. মনিরুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, ফজলুর রহমান, মো. আবদুল হান্নান, আমীর এজাজ খান ও রোকেয়া বেগম।
অন্যদিকে, একই দিনে সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও এর অধীনস্থ সব সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময় করা হয় এবং তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে কমিটিকে অবহিত করা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কমিশন প্রতিষ্ঠার পর গত ১০ বছরের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যয়, আদায় করা জরিমানার পরিমাণ ও নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা মামলার বিস্তারিত তথ্য আগামী বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়। এছাড়া ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ক্ষেত্রে সরকারি ভর্তুকি হ্রাস, ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট নীতিমালা নিয়ে আলোচনা হয়।
কমিটির সভাপতি মো. খালেদ হোসেন মাহবুবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে অংশ নেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, বরকতউল্লা বুলু, আবুল হোসেন খান, মো. আবুল কালাম, হেলেন জেরিন খান, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, গাজী এনামুল হক ও আব্দুল মুনতাকিম।