নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসক দ্বীন মোহাম্মদ সোহেলকে অনুপস্থিত পাওয়ার পর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি সিভিল সার্জনকে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলেন। হাসপাতালের মজুত স্যালাইন রোগীদের দিয়ে বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য করার প্রমাণও পেয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে হাসপাতালটিতে হঠাৎ পরিদর্শনকালে তিনি এসব অনিয়মের প্রমাণ পান। পরিদর্শনকালে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, ফার্মেসি, রান্নাঘর ও শৌচাগার ঘুরে দেখেন এবং ভর্তি থাকা রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন।
এ সময় তিনি সরকারি স্যালাইন থাকা সত্ত্বেও রোগীদের বাইরে থেকে কেনার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ডাক্তার দ্বীন মোহাম্মদ সোহেল কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় সিভিল সার্জনকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, "হাসপাতালে পর্যাপ্ত সরকারি ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ ও স্যালাইন কিনতে বলা বরদাশত করা হবে না।" এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
বেসরকারি চিকিৎসাসেবা খাতের বিষয়ে তিনি জানান, বিগত ১৭ বছরে দেশে বিপুল লাইসেন্সবিহীন ও অবৈধ প্রাইভেট ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে উঠেছে। বর্তমান সরকার এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে এবং অনিয়মের প্রমাণ পেলে জরিমানাসহ প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশের জেলা হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজগুলোর সেবা বৃদ্ধিতে ডায়ালাইসিস সুবিধা সম্প্রসারণের বিষয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, প্রতিটি জেলা হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে ডায়ালাইসিস সুবিধা বৃদ্ধির উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নে টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরিদর্শনের বিষয়টি জানতে পেরে হাসপাতালে আসেন নওগাঁ সদর আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আখতারুজ্জামান এবং সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলাম। স্বাস্থ্যমন্ত্রী উপস্থিত কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং হাসপাতালের সেবার মান শতভাগ নিশ্চিত করতে সবাইকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।