দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে ভোট গ্রহণ হতে যাচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে কোনো প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করায় আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে এই নির্বাচন। ক্ষমতাসীন দল বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদের মধ্যে এই লড়াই হবে।

মঙ্গলবার বিকেল চারটা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় ছিল। সময় শেষ হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, কোনো প্রার্থীই মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি। তিনি ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

১৯৯১ সালের পর রাষ্ট্রপতি পদে আর কোনো ভোট হয়নি। এর পরবর্তী সাতজন রাষ্ট্রপতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন, কারণ বিরোধী দলগুলো কোনো প্রার্থী দেয়নি। এবার ৩৫ বছর পর সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। বর্তমান সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জয় প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে জামায়াত জোটের সংসদ সদস্য সংখ্যা ৯০ জন।

ভোট গ্রহণের সময়সূচি জানিয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, "আগামী বৃহস্পতিবার বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের সংসদ কক্ষে এই ভোট গ্রহণ হবে।" তিনি আরও জানান, আজই ব্যালট পেপার তৈরি করা হবে এবং ভোট গ্রহণের শুরুতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন সংসদ সদস্যদের ভোটদান পদ্ধতি বুঝিয়ে দেবেন।

ব্যালট পেপারের গঠন বর্ণনা করে ইসি সচিব বলেন, "ব্যালট পেপারের দুটো অংশ—একটা মুড়ি অংশ, আরেকটা ব্যালট পেপার অংশ। মুড়ি অংশে থাকে তিনটা তথ্য। এগুলো হচ্ছে ক্রমিক নম্বর, সংসদ সদস্যের নাম এবং তার বিভক্তি নম্বর। সংসদ সদস্য পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করে ব্যালট গ্রহণ করবেন। ডান পাশের অংশে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম বাংলা বর্ণমালার আদ্যক্ষর অনুযায়ী সাজানো থাকবে। নামের ডান পাশে খালি (স্পেস) জায়গায় সংসদ সদস্যরা তাঁদের পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করে ভোট দেবেন। এরপর নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে তাঁরা ব্যালট পেপার জমা দেবেন। বিকেল ৫টা পর্যন্ত ব্যালট গ্রহণ করা হবে।"

তিনি আরও জানান, বিকেল ৫টার পর ব্যালট গণনা করা হবে এবং ব্যালটের রং হবে সাদার ওপর কালো প্রিন্ট।

সংরক্ষিত নারী সদস্যসহ সংসদের মোট আসন ৩৫০টি। তবে আসলাম চৌধুরীর সংসদ সদস্যপদ আদালত বাতিল করায় এবারের নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৩৪৯ জন। ভোট গ্রহণ শেষে সংসদ কক্ষেই গণনা সম্পন্ন হবে এবং নির্বাচনী কর্তা ফলাফল ঘোষণা করবেন। পরবর্তীতে গেজেট প্রকাশ করা হবে।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যরা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিতে পারেন না; অন্যথায় তাঁদের সদস্যপদ শূন্য হয়ে যাবে। বিএনপির বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে মির্জা ফখরুল ইসলামের জয় নিশ্চিত মনে হলেও, দুজন প্রার্থী থাকায় ২০ আগস্ট নির্ধারিত তফসিল অনুযায়ী ভোট গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেন। সংবিধান অনুযায়ী, পদত্যাগের ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা বাধ্যতামূলক।