জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া ২ হাজার ২৪৭ জনের মধ্যে এখনও ৬৯০ জন বন্দি পলাতক রয়েছেন। তাদের মধ্যে দুই জঙ্গি সদস্য রয়েছেন এবং ১৬৬ জনের কোনো তথ্য কারা অধিদপ্তরের কাছে নেই। মঙ্গলবার (১৭ আগস্ট) কারা অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য জানান কারা মহাপরিদর্শক সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন।
কারা মহাপরিদর্শক জানান, পলাতক বন্দিদের মধ্যে যাদের কোনো তথ্য নেই, তারা সবাই নরসিংদী কারাগার থেকে পালিয়েছেন। গণ-অভ্যুত্থানের সময় গাজীপুর ও নরসিংদীসহ এক ডজনেরও বেশি কারাগারে হামলা চালানো হয়েছিল। সে সময় পলাতক বন্দিদের মধ্যে ৯ জন জঙ্গিও ছিলেন। তবে সম্প্রতি জুয়েল নামে একজনকে গ্রেপ্তারের পর বর্তমানে দুজন জঙ্গি পলাতক রয়েছেন।
কারাগারগুলোর ধারণক্ষমতা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, "দেশে ৬০টি জেলা কারাগার এবং ১৫টি সেন্ট্রাল কারাগারে ধারণক্ষমতা ৪৫ হাজার। কিন্তু আজ পর্যন্ত বন্দির সংখ্যা ৯৮ হাজার।"
তিনি উল্লেখ করেন, কারাগারগুলোতে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ বন্দি রয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই দলটির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন।
বন্দিদের স্বাস্থ্য ও মৃত্যু সংক্রান্ত তথ্যে সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন বলেন, "এখন পর্যন্ত ১২২ জন বন্দি কারাগারের বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আর ২০২৫ সালে ১৮৭ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে, আর এ বছর এখন পর্যন্ত ১২২ জনের মৃত্যু হয়েছে।"
কারাগারে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, "মোবাইলে কথা বলছে, এটা আমি শতভাগ নিশ্চয়তা দিতে পারি না যে কথা বলছে না। তবে আমরা কোনোভাবে ছাড় দিচ্ছি না। গত এক বছরে তিন হাজারের ওপরে বেশি মোবাইল জব্দ করা হয়েছে। এটা ধীরে ধীরে কমে আসছে।"
বিদেশি বন্দিদের বিষয়ে মহাপরিদর্শক জানান, বর্তমানে বিভিন্ন কারাগারে ৩৭৯ জন বিদেশি বন্দি রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৭০ জনের সাজা শেষ হয়ে গেলেও দেশে ফেরার অপেক্ষায় আছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের মাধ্যমে তাদের প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া চলছে। গত দুই বছরে ১৭টি বিদেশি মরদেহের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে দুটি মরদেহ ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
বিধি অনুযায়ী বিদেশিদের মরদেহ তিন মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা হয়। বর্তমানে তিনটি মরদেহ হিমাগারে সংরক্ষিত রয়েছে। এই বিষয়ে তিনি বলেন, "যদি কোনো পরিবার বা বিদেশি প্রতিনিধি মরদেহ নিতে না আসে, তবে ডিএনএ সংরক্ষণ করে নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"