চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী ইউনিয়নে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডের দুর্ঘটনাকবলিত স্ক্র্যাপ জাহাজে প্রথমবারের মতো পরিদর্শন করল তদন্তকারী দল। বিশেষজ্ঞ দলটি জাহাজের ব্যালাস্ট ট্যাংকসহ বিভিন্ন অংশ থেকে বাতাস, মাটি ও রাসায়নিকের নমুনা সংগ্রহ করেছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় হাইড্রোজেন সালফাইড পাওয়া না গেলেও অক্সিজেনের পরিমাণ ছিল ২০ দশমিক ৯ শতাংশ। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্ঘটনার চার দিন পর গ্যাস সরে যাওয়ায় এমন ফলাফল এসেছে। এখন ট্যাংকে অতিরিক্ত বিষাক্ত গ্যাস জমার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
গত শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে ‘এমটি রাসি’ নামের ৩০ হাজার ৭৭০ টন ওজনের ওই স্ক্র্যাপ জাহাজের ব্যালাস্ট ট্যাংক কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে শিল্প মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, বিস্ফোরক পরিদপ্তর এবং বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত দলটি সুরক্ষা পোশাক পরে জাহাজটিতে প্রবেশ করে। তারা বিষাক্ত গ্যাস ছড়ানো ট্যাংকের নমুনা পরীক্ষা করে দেখেন যে সেখানে হাইড্রোজেন সালফাইডের উপস্থিতি শূন্য।
চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আশরাফ উদ্দিন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "আজ বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যরা দুর্ঘটনাকবলিত এলাকার বায়ু, পানি এবং মাটির নমুনা করেছেন। সেগুলো আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ করা হবে।"
শ্রমিকেরা কীভাবে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হলেন, তার বিষয়ে আশরাফ উদ্দিন জানান, জাহাজভাঙা কারখানায় এ ধরনের দুর্ঘটনা এবারই প্রথম। সাধারণত ব্যালাস্ট ট্যাংকে পানি জমা থাকে এবং সেখানে হাইড্রোজেন সালফাইডের উপস্থিতি পাওয়া যায় না। তিনি আরও জানান, "যতটুকু জানা গেছে, একজন শ্রমিক ট্যাংক কাটার জন্য ভেতরের পানি বের করতে একটা ছিদ্র করেন। সেখান থেকে পানির সঙ্গে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। গত শুক্রবার ট্যাংকটির পানি বেরিয়ে গেছে কি না, সেটা দেখতে গিয়ে শ্রমিকেরা বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হন। এতে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এখন কোন কারণে ওই ট্যাংকে মাত্রাতিরিক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড জমা হয়েছে, সেটি খতিয়ে দেখবেন বিশেষজ্ঞরা।"
বাতাসে বর্তমানে হাইড্রোজেন সালফাইড না থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে আশরাফ উদ্দিন বলেন, "আজ বাতাসে হাইড্রোজেন সালফাইড ছিল না। ঘটনা ঘটার চার দিন অতিবাহিত হয়েছে। গ্যাস জোয়ারের পানিতে দ্রবীভূত হয়ে গেছে বা বাতাসের সঙ্গে মিশে সরে গেছে। এখন অক্ষত ট্যাংকগুলোয় হাইড্রোজেন সালফাইড আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখতে হবে।"
তদন্তকারী দলের সদস্যরা এ বিষয়ে একটি গাইডলাইন প্রদান করবেন, যাতে তদন্তকারীরা নিরাপদে কাজ করতে পারেন এবং পরবর্তীতে শ্রমিকেরা ঝুঁকিহীনভাবে ট্যাংকগুলো কেটে নিতে পারেন। উল্লেখ্য, ৯ শ্রমিকের মৃত্যুর পর ওই জাহাজভাঙা কারখানার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।