খ্যাতিমান অভিনেতা প্রবীর মিত্র ছিলেন শৈশব থেকে খেলাধুলামুখী। স্কুলজীবনে ক্রিকেটের পাশাপাশি হকি, ব্যাডমিন্টন এবং ফুটবলেও নিয়মিত ছিলেন তিনি।
অভিনেতা পরিচয়ের আড়ালে অনেকের অজানা ছিল খেলোয়াড় পরিচয়। প্রবীর মিত্রের পুরো নাম প্রবীর কুমার মিত্র। আজ ১৮ আগস্ট তাঁর জন্মদিন। জন্মদিন উপলক্ষে অনেকেই তাঁকে স্মরণ করছেন। তবে ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি মারা যান তিনি।
প্রায় ১০ বছর আগে ইউরো বিডিনিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্কুলজীবনের স্মৃতিচারণা করেছিলেন এই অভিনেতা। ঢাকার পোগোজ স্কুলে পড়াকালে প্রথম বিভাগ ক্রিকেট খেলেছেন তিনি।
প্রবীর মিত্র বলেন, ‘আসলে সাংস্কৃতিক জগতে আমার আসার কথা ছিল না। আমি ছিলাম স্পোর্টসম্যান। ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, ব্যাডমিন্টন খেলতাম। সারা বছর মাঠে পড়ে থাকতাম। সারা বছর খেলতাম। আমি ফার্স্ট ডিভিশনে ক্রিকেট খেলতাম, হকি ফার্স্ট ডিভিশনে খেলতাম। ফুটবলে সেকেন্ড ডিভিশনে খেলতাম। ফার্স্ট ডিভিশনে ওঠার পর বাসা থেকে খেলা বন্ধ করে দিল।’
এরপর আর খেলাধুলায় ফেরেননি প্রবীর মিত্র। অভিনয়ে নিয়মিত হন এবং অভিনয়শিল্পী হিসেবে ধীরে ধীরে তারকাখ্যাতি অর্জন করেন।
প্রবীর মিত্রের জন্ম ১৯৪১ সালের ১৮ আগস্ট চাঁদপুরের নতুনবাজার গুয়াখোলায় মামার বাড়িতে। দাদার বসতবাড়ি কেরানীগঞ্জে। পুরান ঢাকায় বড় হওয়া প্রবীর মিত্র স্কুলজীবন থেকেই নাট্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত হন। স্কুলজীবনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ডাকঘর’ নাটকে অভিনয় করেছিলেন তিনি।
১৯৬৯ সালে প্রয়াত এইচ আকবরের ‘জলছবি’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান প্রবীর মিত্র। তবে চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ১৯৭১ সালের ১ জানুয়ারি। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তিনি ‘নায়ক’ হিসেবে কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। পরে চরিত্রাভিনেতা হিসেবে কাজ করেও দর্শকপ্রিয়তা পান।
‘তিতাস একটি নদীর নাম’, ‘জীবন তৃষ্ণা’, ‘সেয়ানা’, ‘জালিয়াত’, ‘ফরিয়াদ’, ‘রক্ত শপথ’, ‘চরিত্রহীন’, ‘জয়-পরাজয়’, ‘অঙ্গার’, ‘মিন্টু আমার নাম’, ‘ফকির মজনু শাহ’, ‘মধুমিতা’, ‘অশান্ত ঢেউ’, ‘অলংকার’, ‘অনুরাগ’, ‘প্রতিজ্ঞা’, ‘তরুলতা’, ‘গাঁয়ের ছেলে’, ‘পুত্রবধূ’সহ চার শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।
(লেখাটি পুনঃপ্রকাশিত)