যশ অভিনীত ‘টক্সিক: আ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোন–আপস’ সিনেমা মুক্তির আগেই ভারতে বক্স অফিসে শক্ত অবস্থান গড়তে যাচ্ছে। প্রথম দিনের আগাম বুকিংয়ে এখন পর্যন্ত ৪ লাখ ৭৩ হাজারের বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছে। পাশাপাশি আগাম বুকিংয়ের আয় ২৭ কোটি রুপি ছাড়িয়েছে। তবে মুক্তির আগে থেকেই ছবিটিকে কেন্দ্র করে নানা বিতর্কও সামনে এসেছে; কেউ কেউ এটিকে ‘নারীবিদ্বেষী’ সিনেমা বলছেন। প্রচারণার সময় সেই অভিযোগ প্রসঙ্গে যশের বক্তব্য পাওয়া গেছে।

স্যাকনিল্কের তথ্য অনুযায়ী, ১২ হাজার ৬০৯টি শোতে ৪ লাখ ৭৩ হাজারের বেশি টিকিট বিক্রি করে ‘টক্সিক’ ইতিমধ্যে ১৮ কোটি ৮৪ লাখ রুপি আয় করেছে। এই হিসাবের মধ্যে বুক করা টিকিটের পাশাপাশি বিভিন্ন শোয়ের ব্লক করা আসনও রয়েছে। কন্নড় ও হিন্দি সংস্করণ থেকে সবচেয়ে বেশি আয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কন্নড় সংস্করণ টুডি শো থেকে প্রায় ৯ কোটি ৬০ লাখ রুপি এবং হিন্দি সংস্করণ থেকে ৭ কোটি ৭২ লাখ রুপি আয় হয়েছে। কন্নড় আইম্যাক্স ও ফোরডিএক্সের মতো প্রিমিয়াম স্ক্রিনিং থেকেও উল্লেখযোগ্য আয় যুক্ত হয়েছে।

শুধু প্রথম দিনের আগাম বুকিংয়ের হিসাব ধরলে ‘টক্সিক’ এখন পর্যন্ত ২৭ কোটি ৩৮ লাখ রুপি আয় করেছে। বর্তমান গতি অব্যাহত থাকলে মুক্তির আগেই ৩০ কোটি রুপির মাইলফলক পেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার কথাও বলা হচ্ছে। আগাম বুকিংয়ে কর্ণাটক এগিয়ে রয়েছে। যশের জনপ্রিয়তার কারণে ওই রাজ্যে ছবিটির প্রতি আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে। সেখানে ১ হাজার ৭৪৪টি শো থেকে আয় হয়েছে ১০ কোটি ৬৯ লাখ রুপি। মুক্তির তিন দিন আগেই কর্ণাটকে ৭৪২টি শো প্রায় পূর্ণ হয়ে গেছে।

শোর সংখ্যার দিক থেকে অবশ্য গুজরাট এগিয়ে। সেখানে ছবিটির ২ হাজার ৩১৯টি শো রয়েছে, এরপর মহারাষ্ট্রে ২ হাজার ১৮৯টি শো। তবে আগাম বুকিংয়ের আয়ে এই দুই রাজ্য কর্ণাটকের তুলনায় পিছিয়ে। গুজরাটে আয় হয়েছে ১ কোটি ১৭ লাখ এবং মহারাষ্ট্রে ১ কোটি ৩৩ লাখ রুপি। এ ছাড়া পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লি ও উত্তর প্রদেশে আগাম বুকিংও ভালো যাচ্ছে। এসব অঞ্চল থেকে যথাক্রমে ৮৯ লাখ ৫১ হাজার রুপি, ৮৭ লাখ ৯২ হাজার ও ৮০ লাখ ২৯ হাজার রুপি আয় হয়েছে।

বিতর্কের বিষয়ে যশ জানান, ট্রেলার দেখে ‘টক্সিক’ সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে। পুরো সিনেমাটি দেখার পরই দর্শকদের মতামত দেওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন। গত শনিবার হায়দরাবাদে ছবিটির প্রাক্‌–মুক্তি অনুষ্ঠানে নারী দর্শকদের উদ্দেশে যশ বলেন, ‘সিনেমাটি দেখুন, উপভোগ করুন। আমি নিশ্চিত, আপনারা দারুণ সময় কাটাবেন।’ অনুষ্ঠানটিতে পরিচালক গীতু মোহনদাস একজন নারী—এই বিষয়টিও বিশেষভাবে তুলে ধরেন যশ। তাঁর মতে, ছবিটি নারীদের সক্ষমতা ও নিজেদের মতো করে এগিয়ে যাওয়ার গল্প বলবে।

যশ বলেন, ‘আমি তরুণীদের কিছু বলতে চাই। এই সিনেমার পরিচালকও একজন নারী—গীতু মোহনদাস। জীবনে কিছু অর্জন করা সবার জন্যই কঠিন। তবে আপনাদের জন্য সেটা দ্বিগুণ কঠিন। সমাজ সব সময় হয়তো আপনাদের গ্রহণ করতে চাইবে না। মানুষ প্রশ্ন তুলবে—একজন নারী আবার কী করতে পারেন! আমিও এমন কথা শুনেছি।’ গীতু মোহনদাসকে প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, ‘এই পরিচালক প্রমাণ করবেন, প্রত্যেক মেয়ে ও নারী যেকোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারেন, নিজের চিন্তা ও ভাবনা প্রকাশ করতে পারেন এবং এই সমাজে নিজের শর্তে সফল হতে পারেন।’

যশের ভাষ্য, ট্রেলার দেখে ছবিটি সম্পর্কে যে ধারণা তৈরি হয়েছে, বাস্তব গল্পটি তার চেয়ে আলাদা। তিনি বলেন, ‘ট্রেলার যে ধারণা দিয়েছে, তার বিপরীতে এই সিনেমা সত্যিকার অর্থেই নারীদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরে।’ নারী দর্শকদের উদ্দেশে তাঁর পরামর্শ—প্রচারণার কিছু দৃশ্য দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে পুরো সিনেমাটি দেখা, এরপর মতামত দেওয়া।

‘টক্সিক’কে ঘিরে সমালোচনা শুরু হয় প্রচারণার পর থেকেই। নারী চরিত্রের উপস্থাপন নিয়ে টিজার, গান ও ট্রেলারে প্রশ্ন তোলেন দর্শকদের একাংশ। টিজারে যশের চরিত্রের সঙ্গে এক নারীর ঘনিষ্ঠ দৃশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠে। পরে ‘তাবাহি’ গানে যশ ও কিয়ারা আদভানির ঘনিষ্ঠ দৃশ্যও আলোচনায় আসে। কিয়ারার চরিত্র ও তাঁকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা নিয়েও সমালোচনা হয়। ট্রেলার প্রকাশের পর বিতর্ক আরও জোরালো হয়—বিশেষ করে নারী চরিত্রগুলোর পর্দায় উপস্থিতি ও তাঁদের কীভাবে দেখানো হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ছবিতে নয়নতারা, কিয়ারা আদভানি, তারা সুতারিয়া, হুমা কুরেশি ও রুক্মিণী বসন্তের মতো অভিনেত্রী থাকলেও তাঁদের চরিত্রের ব্যাপ্তি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

অবশ্য এর বিপরীতে ছবির গ্যাংস্টার অবতার, সিনেমাটির বিশাল নির্মাণ পরিসর ও দৃশ্যায়ন প্রশংসাও পেয়েছে দর্শকদের একাংশের কাছ থেকে।

‘কেজিএফ’ সিরিজের সাফল্যের পর যশ কোন পরিচালকের সঙ্গে কাজ করবেন—তা নিয়ে কৌতূহল ছিল। যশ জানান, গীতু মোহনদাস সেভাবে ভাবেননি। তাঁর ভাষায়, ‘“কেজিএফ”–এর পর মানুষ ভাবছিল, যশ কোন বড় পরিচালকের সঙ্গে কাজ করবে, কিংবা পরবর্তী কোন বাণিজ্যিক ফর্মুলা অনুসরণ করবে। কিন্তু সে (গীতু) বলেছিল, “আমার টাকার প্রয়োজন নেই। আপনি আমাকে ইতিমধ্যে যথেষ্ট দিয়েছেন।”’ নিজের সাফল্য ও অর্থ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার সম্পদের কারণে আমি সম্মান পাই না। আমি আমার কাজের জন্য সম্মান পাই।’

গীতু মোহনদাস পরিচালিত ‘টক্সিক’–এ যশের সঙ্গে অভিনয় করেছেন কিয়ারা আদভানি, নয়নতারা, হুমা কুরেশি, তারা সুতারিয়া ও রুক্মিণী বসন্ত। অ্যাকশন–থ্রিলার ঘরানার ছবিটি ২৬ আগস্ট প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে। কন্নড়ের পাশাপাশি ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলেগু ও মালয়ালম ভাষায় মুক্তি পাবে ছবিটি। ‘কেজিএফ’ ফ্র্যাঞ্চাইজির পর নতুন এই ছবিকে ঘিরে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তাই মুক্তির আগে আগাম বুকিংয়ের এই গতি শেষ পর্যন্ত প্রথম দিনের বক্স অফিসে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।