বগুড়ায় জেলা জজ আদালতের সাত আইন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। গতকাল সোমবার দুপুরে তাঁরা বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমানের কাছে পদত্যাগপত্র হস্তান্তর করেন।

তাঁরা জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত বাংলাদেশ ল ইয়ার্স কাউন্সিলের সদস্য। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর বগুড়া জেলা জজ আদালতে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির সমর্থকসহ ১৩২ জন আইনজীবীকে সরকারি কৌঁসুলি (পিপি), সরকারের পক্ষে দেওয়ানি মামলা পরিচালনাকারী জিপিসহ নানা পদে আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

পদত্যাগী আইন কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন বগুড়ার অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি শাফিকুর রহমান ও এমদাদুল হক, সহকারী সরকারি কৌঁসুলি আরিফুর রহমান, সাইফুল ইসলাম, ইন্দ্রজিৎ কুমার ঘোষ ও আতাউর রহমান, এজিপি শহিদুল ইসলাম।

আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর জেলা প্রশাসকের কাছে যোগদানের বিধান আছে উল্লেখ করে সাতজন ওই কর্মকর্তা জেলা প্রশাসকের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

পদত্যাগপত্র দেওয়ার সময় ল ইয়ার্স কাউন্সিল বগুড়া ইউনিটের সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন, সেক্রেটারি নূরুল ইসলাম আকন্দসহ জামায়াত সমর্থিত আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

পদত্যাগ করা শাফিকুর রহমান বলেন, ‘জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করেনি সরকার। এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিলের ফলে বিচারপতি নিয়োগে সরকার ও সরকারি দলের প্রভাব জুলাই পূর্ব অবস্থায় ফিরে যাওয়ায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থা, আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে জনগণ এখন উদ্বিগ্ন। এ কারণে নীতিগতভাবে এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর জেলা প্রশাসকের কাছে যোগদানের বিধান আছে। এ কারণে সাতজন আইন কর্মকর্তা তাঁর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তাঁদের এসব পদত্যাগপত্র আইন মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে পাঠানো হবে।