চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে গোসলে নেমে এক কিশোরের মৃত্যু হলেও তা গোপন রেখে অপহরণের নাটক সাজিয়ে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টার অভিযোগে চার বন্ধুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মৃত কিশোরের পরিবারকে সে জীবিত আছে বলে বিশ্বাস করিয়ে ৬০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় অভিযুক্তদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
নিহত সায়েদ মুনিফ আহমেদ শান (১৫) সন্দ্বীপের মগধারা এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের ছেলে। সে চট্টগ্রামের হালিশহরের ‘চট্টগ্রাম মডার্ন স্কুল’-এর নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল।
পুলিশ ও মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৫ আগস্ট সকাল ১১টার দিকে কোচিং পরীক্ষায় অংশ নিতে বাসা থেকে বের হয় শান। পরীক্ষা শেষে দুপুর ১২টার দিকে চার বন্ধুর সাথে সে বাইরে যায়, তবে আর বাড়ি ফেরে না। পরদিন ১৬ আগস্ট সকালে শানের বাবার মোবাইলে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন করে জানানো হয়, শানকে বন্দি করে রাখা হয়েছে এবং তাকে মারধর করা হচ্ছে। ছেলেকে জীবিত ফেরত পেতে ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। নিরুপায় হয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে একটি বিকাশ নম্বরে ৬০ হাজার টাকা পাঠানো হলেও মুক্তি না দিয়ে আরও টাকা দাবি করতে থাকে ওই চক্রটি।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে শানের বাবা প্রথমে হালিশহর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এবং পরবর্তীতে এজাহার দায়ের করেন। এরপর পুলিশ সন্দেহভাজন চার বন্ধু—আরাফাত হোসেন শাউন (১৫), মাহমুদুল হাসান মিশকাত (১৫), মো. সাব্বীর খান (১৫) ও মো. সাকিবুল ইসলাম আহাদকে (১৪) আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করে, ১৫ আগস্ট দুপুরে তারা সবাই মিলে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে গিয়েছিল। সেখানে সাগরে গোসলে নামলে শান স্রোতের টানে ভেসে যায়। ভয়ে তারা বিষয়টি কাউকে না জানিয়ে যার যার বাসায় ফিরে আসে। পরবর্তীতে এই ঘটনাকে ‘অপহরণ’ হিসেবে চালিয়ে দিয়ে পরিবারের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করে তারা।
হালিশহর থানা-পুলিশ পতেঙ্গা থানার সাথে যোগাযোগ করলে জানতে পারে, ১৫ আগস্ট বিকেলে সমুদ্রসৈকত থেকে এক অজ্ঞাত কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। পরিচয় না পাওয়ায় মরদেহটি আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছিল। পরে পরিবারের সদস্যরা পতেঙ্গা থানায় গিয়ে মরদেহটি শানের বলে শনাক্ত করেন।
ঘটনা প্রসঙ্গে হালিশহর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোশাররফ হোসেন বলেন, "শানের বন্ধুরা বলছে তারা ভয়ে বিষয়টি কাউকে জানায়নি। এটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত হত্যা তা তদন্তের পর স্পষ্ট হবে। আপাতত আটক চার বন্ধুকে অপহরণ ও অর্থ আদায়ের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।"