সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আমদানির ক্ষেত্রে সরকার ঘোষিত শুল্ক-কর সুবিধা নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ের কাস্টমস হাউস ও এলসি স্টেশনগুলোকে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
সম্প্রতি কাস্টমস আইন, ২০২৩-এর ২৬৬ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করেছে সংস্থাটি। এনবিআরের ওই পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে শুল্ক-কর ছাড় দেওয়া হলেও বিভিন্ন কাস্টমস হাউস ও এলসি স্টেশনে পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা ও জটিলতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি নজরে আসার পর এসব জটিলতা দূর করতে স্পষ্টীকরণ প্রদান করা হয়েছে।
মাঠপর্যায়ের কাস্টমস হাউস ও এলসি স্টেশনগুলোকে নির্দেশ দিয়ে এনবিআর জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকদের পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে যেন অযথা জটিলতা বা দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টি না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, সোলার ফটোভোলটাইক মডিউল বা প্যানেলের এইচএস কোড ৮৫৪১.৪৩.০০। এই পণ্যটি মূলধনী যন্ত্রপাতি সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন এবং নবায়নযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন—উভয় ক্ষেত্রেই অন্তর্ভুক্ত। ফলে কোনো আমদানিকারক একই বিল অব এন্ট্রিতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন-সংশ্লিষ্ট একাধিক পণ্য ঘোষণা করলে নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সোলার প্যানেলের ক্ষেত্রে মূলধনী যন্ত্রপাতি সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের সুবিধা এবং অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনের সুবিধা নিতে পারবেন।
এনবিআর স্পষ্ট করেছে যে, পণ্যের এইচএস কোডে পার্থক্য থাকলেও শুধু সেই কারণে আমদানিকারককে শুল্ক-কর সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। একইসঙ্গে সোলার ইনভার্টার আমদানির ক্ষেত্রে এইচএস কোড নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতাও দূর করেছে সংস্থাটি।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, "গত ৮ জুন সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনের টেবিল-১-এ সোলার ইনভার্টারের বিপরীতে অনিচ্ছাকৃতভাবে ৮৫০৪.৪০.৪০-এর পরিবর্তে ৮৫০৪.৪০.৯০ এইচএস কোড উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে পণ্যের বর্ণনাই প্রাধান্য পাবে।"
অর্থাৎ, প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে শুধু এইচএস কোডের পার্থক্যের কারণে সোলার ইনভার্টার আমদানিকারককে ঘোষিত শুল্ক-কর রেয়াতি সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।
এছাড়া, কোনো উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নিজস্ব ব্যবহারের জন্য সৌরবিদ্যুৎ প্ল্যান্ট স্থাপন করলে নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে মাত্র ১ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি দিয়ে পণ্য খালাস করা যাবে। অন্যদিকে, বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের ক্ষেত্রে ১ শতাংশ কাস্টমস ডিউটির পাশাপাশি ৭ দশমিক ৫ শতাংশ আগাম কর এবং ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর প্রদান করতে হবে। তবে পরবর্তী সময়ে এই আগাম কর ও অগ্রিম আয়কর সমন্বয়যোগ্য হবে।