মাঠের বাইরের এক অদ্ভুত ঘটনায় আলোচনায় এসেছেন মিশরের জাতীয় ফুটবল দলের কোচ হোসাম হাসান। দেশটির একটি সংবাদমাধ্যমের দাবি, উত্তর উপকূলের একটি হোটেলের ক্যাফেতে তার বর্তমান স্ত্রী দান আদম এবং সাবেক স্ত্রী হোয়াইদা আল-গারবাওয়ির মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই জ্ঞান হারান কোচ হোসাম হাসান।
আল-মাসরি আল-ইয়োমের লাইফস্টাইল বিভাগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোসামের উপস্থিতিতেই দুই নারীর মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়, যা দ্রুত শারীরিক সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তাদের মধ্যে ঘুষি বিনিময় এবং চেয়ার ছুড়ে মারার ঘটনাও ঘটেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ক্যাফেতে উপস্থিত কয়েকজন পুলিশে খবর দেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দুই পক্ষের শরীরেই আঘাত ও কালশিটে দাগ দেখা গেছে। তীব্র উত্তেজনার এক পর্যায়ে জ্ঞান হারান হোসাম হাসান।
তবে উল্লেখ্য যে, প্রতিবেদনটিতে ঘটনার নির্দিষ্ট তারিখ, হোটেলের নাম, প্রত্যক্ষদর্শীর পরিচয় কিংবা পুলিশের কোনো নথির উল্লেখ নেই। হোসাম হাসান, সংশ্লিষ্ট দুই নারী, মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন কিংবা স্থানীয় পুলিশের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনার বিস্তারিত স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে হোসামের দুই সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়। গত জুনে একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে হোয়াইদা তাদের পারিবারিক জীবন নিয়ে কথা বলার পর প্রতিক্রিয়া জানান দান আদম।
গত ১৬ জুলাই দান জানান, "হোয়াইদার সঙ্গে হোসামের বৈবাহিক সম্পর্ক বহু বছর আগেই আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে। নিজের সঙ্গে হোসামের বিয়ে হয়েছে ১১ বছর আগে। তাই সাম্প্রতিক ঘটনার পর হোয়াইদাকে নতুন করে তালাক দেওয়ার যে দাবি ছড়িয়েছে, তার সমর্থনে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।"
জানা গেছে, ১৯৯৪ সালে হোয়াইদার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল হোসামের। তাদের চার সন্তান— ইয়ারা, ওমর, জেইনা ও জান্না। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে দান আদমকে বিয়ে করেন মিশরের এই সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা।