ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অবস্থান আরও শক্ত হচ্ছে। এবার তার ওপর আস্থা হারানোর কথা জানিয়ে আগামী নির্বাচনে তাকে ভোট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্কটিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এসএফএ)।

এসএফএর প্রধান নির্বাহী ইয়ান ম্যাক্সওয়েল বিবিসি স্পোর্টকে জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের শুরুতে ফিফা সভাপতি নির্বাচনে ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনের পক্ষে থাকবে না স্কটল্যান্ড।

ম্যাক্সওয়েল বলেন, ‘৫৫টি উয়েফা সদস্যদেশের সভার পর থেকেই এসএফএর অবস্থান পরিষ্কার। আমরা উয়েফার অবস্থানের সঙ্গে একমত। একটি কণ্ঠের চেয়ে ৫৫টি দেশের সম্মিলিত কণ্ঠ অনেক বেশি শক্তিশালী।’

ফিফার বর্তমান নেতৃত্বের ওপর আস্থা না থাকার বিষয়ে উয়েফার অবস্থানকে পুরোপুরি সমর্থন করছে স্কটিশ এফএ। ম্যাক্সওয়েল বলেন, ‘তাদের বিবৃতিতে ফিফার নেতৃত্বের ওপর আস্থার ঘাটতির কথা বলা হয়েছে এবং স্কটিশ এফএ সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত। ২০২৭ সালের পুনর্নির্বাচনে এসএফএ জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ভোট দেবে না।’

ইনফান্তিনোকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ বা এফএফই প্রকল্প। পরিকল্পনা ছিল বিশ্বকাপসহ ফিফার সব প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক ও টিকিট বিক্রির স্বত্ব দেখভালের জন্য একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গঠন করা। এর ২০ শতাংশ মালিকানা একটি বেসরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির প্রস্তাবও ছিল।

তবে উয়েফাসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ফুটবল সংস্থার তীব্র আপত্তির মুখে শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনাটি বাতিল করে ফিফা। এর পর থেকেই ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। এমনকি ফিফার প্রতিযোগিতা বয়কটের হুমকিও দিয়েছে উয়েফা।

এর আগে ইংল্যান্ড, ওয়েলস ও আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও ইনফান্তিনোর ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে।

গত সপ্তাহে উয়েফা, কনকাকাফ ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন যৌথ খোলা চিঠিতে ফিফা ও ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ‘প্রতারণার মাধ্যমে’ বিশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগ তোলে। তাদের মতে, এফএফই নিয়ে বিতর্ক কেবল একটি বাণিজ্যিক প্রকল্পের প্রশ্ন নয়, বরং ফুটবল এবং এর নেতৃত্বের সততার সঙ্গেও সম্পর্কিত।

যৌথ বিবৃতিতে সরাসরি ইনফান্তিনোর নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে বিবিসির সূত্রগুলোর দাবি, এটি ফিফা সভাপতির প্রতি পদত্যাগের স্পষ্ট বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

ফিফা জানিয়েছে, বাতিল হয়ে যাওয়া এফএফই পরিকল্পনা নিয়ে একটি প্রতিবেদন আগামী অক্টোবরে সম্ভাব্য ফিফা কাউন্সিল সভায় উপস্থাপন করা হবে। কিন্তু উয়েফা, কনকাকাফ ও এএফসি মনে করছে, বিষয়টির তদন্ত ফিফার অভ্যন্তরে নয়, স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে হওয়া উচিত।

ইনফান্তিনোকে ঘিরে বিশ্ব ফুটবল এখন কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত। আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও ওশেনিয়ার আঞ্চলিক কনফেডারেশনগুলো এখনো তার পাশে রয়েছে। তবে এসব কনফেডারেশনের মধ্যেও ভিন্নমত দেখা যাচ্ছে। ওশেনিয়ায় নিউজিল্যান্ড ইনফান্তিনোকে সমর্থন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এশিয়াতেও এএফসির অবস্থানের বিপরীতে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, শ্রীলঙ্কা, লেবানন, কুয়েত, মঙ্গোলিয়া, ফিলিপাইন ও ভুটান ইনফান্তিনোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

আগামী মার্চে চতুর্থ মেয়াদে ফিফা সভাপতি হওয়ার জন্য নির্বাচনে দাঁড়ানোর কথা ইনফান্তিনোর। এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থিতা ঘোষণা করেননি। তবে একের পর এক জাতীয় ফুটবল সংস্থার সমর্থন প্রত্যাহারে নির্বাচন ঘিরে ইনফান্তিনোর অবস্থান ক্রমেই চাপের মুখে পড়ছে।