নওগাঁর রাণীনগর থানা প্রাঙ্গণে পুলিশের হেফাজতে রাখা একটি গাভি বাছুর জন্ম দিয়েছে। মামলার আলামত হিসেবে রাখা ওই গাভিটির এই প্রসবের ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও আনন্দের সৃষ্টি করেছে।

জানা গেছে, গত জুলাই মাসে নওগাঁর রাণীনগর, আত্রাই ও বদলগাছিসহ বিভিন্ন এলাকায় গরু চুরির একাধিক ঘটনা ঘটে। এরপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ অভিযানে নাটোর জেলা থেকে চোরচক্রের বেশ কয়েকজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই অভিযানে পাঁচটি গরু উদ্ধার করা হয়, যার মধ্যে একটি গাভি অন্তঃসত্ত্বা ছিল।

উদ্ধার করা গরুগুলোর তাৎক্ষণিক কোনো দাবিদার না থাকায় আদালতের নির্দেশে সেগুলোকে থানা হেফাজতে রাখা হয়। গরুগুলোর নিয়মিত খাবার, গোসল ও দেখভালের দায়িত্ব চুক্তির ভিত্তিতে দেওয়া হয় স্থানীয় কৃষক মঈন মণ্ডলের ওপর। পাশাপাশি উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে গরুগুলোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছিল। এই সময়েই অন্তঃসত্ত্বা গাভিটি একটি সুস্থ বাছুরের জন্ম দেয়। মঈন মণ্ডল জানান, দীর্ঘদিনের যত্নে গরুগুলোর প্রতি তার মায়া জন্মেছে এবং বাছুর জন্ম দেওয়ার পর সেই টান আরও বেড়েছে।

অন্যদিকে, নাটোরের সিংড়া এলাকার বাসিন্দা পপি রানী নামের এক নারী নিজেকে উদ্ধারকৃত গরুগুলোর মালিক বলে দাবি করেছেন। তিনি জানান, ছোটবেলা থেকে লালনপালন করা গরুগুলো পুলিশ অভিযানে তার স্বামীসহ আটক করে নিয়ে এসেছে। তবে আইনি জটিলতার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে গরুগুলো তার হাতে হস্তান্তর করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনাটি নিশ্চিত করে রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাকারিয়া মণ্ডল বলেন, "উদ্ধার করা গরুগুলোর প্রকৃত মালিক শনাক্তের চেষ্টা চলছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যে প্রকৃত মালিকের দেখা না মিললে আগামী সপ্তাহে আদালতের নির্দেশনানুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

তিনি আরও জানান, গরুগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও খাবারের খরচসংক্রান্ত বিষয়টি আদালতকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।