দীর্ঘ দুই বছর পর সচল হতে যাচ্ছে দ্য সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ। আগামী ৫ নভেম্বর চেম্বারের পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে চেম্বারের হলরুমে প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা নির্বাচনের এই তপশিল ঘোষণা করেন।

বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী, দুই বছর মেয়াদি এই পরিচালনা পর্ষদে একজন সভাপতি, একজন সিনিয়র সহসভাপতি, একজন সহসভাপতি এবং ২৪ জন পরিচালকসহ মোট ২৭ সদস্য নির্বাচিত হবেন।

এর আগে ২০ মাসেরও বেশি সময় ধরে প্রশাসক দ্বারা রুটিন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল সিলেট চেম্বারে। সম্প্রতি সেখানে রাজনৈতিক প্রশাসক বসানোর সরকারি পরিকল্পনার কথা জানা যাওয়ায় দ্রুত নির্বাচনের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসছিল, যা ব্যবসায়ীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। এই বিষয়ে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে কথা বলে গত ২৭ জুলাই সংবাদ প্রকাশ করেছিল মুক্তকণ্ঠ।

সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসক পিংকি সাহা জানান, তিন সদস্যের নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) আয়েশা আক্তার। বোর্ডের অন্য দুই সদস্য হলেন সহকারী কমিশনার তানভীর আহমেদ সজীব ও সহকারী কমিশনার লাবণ্য ইসলাম। এছাড়া নির্বাচন আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন স্থানীয় সরকারের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মোহাম্মদ মাসুদ রানা এবং সদস্য হিসেবে রয়েছেন মোহাম্মদ পারভেজ ও মাসুমা ইসলাম লোনা।

নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান আয়েশা আক্তার সাংবাদিক ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তপশিল ঘোষণা করেন। ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, ১৩ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। এই তালিকার বিরুদ্ধে আপত্তি দাখিলের শেষ সময় ১৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টা পর্যন্ত এবং ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করা হবে। ২০ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।

সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও দাখিল করা যাবে। যাচাই-বাছাই শেষে ৩ অক্টোবর বৈধ প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হবে। মনোনয়ন বাতিল হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী আপিল বোর্ডের কাছে আপত্তি জানাতে পারবেন, যার শুনানি ও নিষ্পত্তি চলবে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে। ১২ অক্টোবর বৈধ প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের নোটিশ দেওয়া হবে এবং ১৫ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে। একই দিনে বৈধ মনোনীত প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।

আগামী ৫ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। ফলাফলের বিরুদ্ধে ভোটের দিন থেকে পরবর্তী কয়েক দিন আপত্তি দাখিল করা যাবে, যার শুনানি ও নিষ্পত্তি হবে পরের সপ্তাহে। সবশেষে ১০ নভেম্বর বিকেলে নির্বাচন বোর্ড চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করবে।

নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান আয়েশা আক্তার জানান, বিধিমালা অনুযায়ী নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখের ৮০ দিন আগে তপশিল ঘোষণা করতে হয়। এছাড়া ভোটের ৬০ দিন আগে পর্যন্ত বকেয়া পরিশোধ করে সদস্যপদ নবায়ন করলে সংশ্লিষ্ট সদস্য ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন। তিনি আরও জানান, ৫ নভেম্বরের ভোটের তারিখ থেকে হিসাব করে ৬ সেপ্টেম্বরকে সদস্যপদ নবায়নের শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। এর পরে সদস্যপদ নবায়ন করা ব্যক্তিরা এবারের নির্বাচনের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন না।