নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং বাজারে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সুপারশপসহ পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের সভাকক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. জহিরুল ইসলাম।
সভায় অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) সেবাস্টিন রেমা, পরিচালক (কার্যক্রম ও গবেষণাগার) আতিয়া সুলতানা, পরিচালক (অভিযোগ ও তদন্ত) মো. মাসুম আরেফিনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিএসটিআই, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি, কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব), সুপারশপ, ব্যবসায়ী সমিতি এবং বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
আলোচনায় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, অবৈধ মজুতদারি, কৃত্রিম সংকট, পরিবহন খাতের অনিয়ম, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এবং সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
অধিদপ্তরের পরিচালক আতিয়া সুলতানা বলেন, "অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক শান্তির অন্যতম শর্ত হলো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা। এ জন্য স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও ভোক্তাবান্ধব বাজারব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।"
মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক নয়ন কুমার সাহা জানান, বাজার তদারকির সময় অনেক ব্যবসায়ীর মূল্যতালিকা প্রদর্শন ও ক্রয়রশিদ সংরক্ষণে অনীহা দেখা যায়। তিনি ব্যবসায়ীদের নকল ও ভেজাল পণ্য বাজারজাতকরণে সহযোগিতা না করার আহ্বান জানান।
মুক্ত আলোচনায় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে পরিবহন খাতের বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে বাজার তদারকি ও অভিযান পরিচালনার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
ক্যাবের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, "নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সুষ্ঠু পরিবহনব্যবস্থা, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানো, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।"
সভায় বক্তারা মত প্রকাশ করেন যে, কেবল আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে বাজারে স্থায়ী পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়; এর জন্য ভোক্তা ও ব্যবসায়ী উভয়ের সচেতনতা, দায়িত্বশীলতা ও নৈতিকতা প্রয়োজন। ব্যবসায়ীদের নকল-ভেজাল পণ্য সরবরাহ থেকে বিরত থাকতে এবং পণ্যের নির্ভরযোগ্য উৎস নিশ্চিত করতে অনুরোধ করা হয়। পাশাপাশি সরকারি নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে ট্রেড লাইসেন্স বাতিলের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, "সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান সমুন্নত রাখতে ন্যায্যতা নিশ্চিতের মাধ্যমে বাজার স্থিতিশীল রাখা সবার দায়িত্ব। শুধু জরিমানা আরোপই মুখ্য নয়, বরং বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।"
তিনি আরও বলেন, "ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা ও দায়িত্বশীলতা থাকলে আইন প্রয়োগের প্রয়োজন অনেকাংশে কমে আসে।" অসাধু ব্যবসায়ী ও মধ্যস্বত্বভোগীদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।