বিসিএস পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রোগ্রামার কৌশিক দেবনাথের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবির এই আদেশ প্রদান করেন।

আদালতে আত্মসমর্পণ করে কৌশিক দেবনাথ জামিনের আবেদন জানান। শুনানির সময় তাঁর আইনজীবী মো. শরিফুল ইসলাম দাবি করেন, "আসামির বিরুদ্ধে এজাহারে এবং অভিযোগপত্রে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট।" তিনি আরও জানান, তাঁর মক্কেল এই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। তবে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের তীব্র বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপটে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৮ জুলাই রাজধানীর পল্টন থানায় বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন আইনে সিআইডির উপপরিদর্শক নিপ্পন চন্দ্র বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ৩১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫০-৬০ জনকে আসামি করা হয়। তদন্ত শেষে গত ১৮ মে আবেদ আলীসহ মোট ৫৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন কুমার সাহা।

তদন্ত প্রতিবেদন ও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসচক্রের মূল হোতা আবেদের নেতৃত্বে পরীক্ষার আগেই নির্বাচিত প্রার্থীদের কাছে প্রশ্ন ও উত্তর পৌঁছে দেওয়া হতো। নির্দিষ্ট স্থানে প্রার্থীদের এনে প্রশ্ন-উত্তর মুখস্থ করানো হতো এবং পরীক্ষার দিন তাঁদের কেন্দ্রে পাঠানো হতো। এই কার্যক্রমের বিনিময়ে চক্রটি মোটা অঙ্কের টাকা অগ্রিম গ্রহণ করত। তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রের বিস্তার ছিল দেশের বিভিন্ন জেলায় এবং এতে সরকারি চাকরিজীবী, পিএসসির বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যবসায়ী, চিকিৎসক, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ যুক্ত ছিলেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, এই নেটওয়ার্কটি বিজি প্রেস থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। দীর্ঘ সময় ধরে সক্রিয় এই সংঘবদ্ধ চক্রটি পরীক্ষার গোপনীয়তা নষ্ট করে রাষ্ট্রীয় নিয়োগব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।

এর আগে গত ৭ জুলাই হাইকোর্টে আত্মসমর্পণ করে কৌশিক দেবনাথ জামিন আবেদন করলে আদালত তাঁকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানার ইনচার্জ মো. রিপন মোল্লা জানান, আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করায় আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে প্রিজন ভ্যানে করে তাঁকে জেলখানায় নিয়ে যাওয়া হয়।