দেশে মতপ্রকাশের সুযোগ ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে ডেমোক্রেটিক জার্নালিস্ট অ্যালায়েন্সের আয়োজনে ‘সাংবাদিকের চোখে জুলাই’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবিতে গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিবাদ জানানো হলেও সেটিকে হঠকারিতা হিসেবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, "যখন আমরা গণতান্ত্রিকভাবে কোনো প্রতিবাদ করছি, গ্যাস বা বিদ্যুৎ নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি, তখন সেটাকে হঠকারিতা বলা হচ্ছে। সরকারকে এসব সেবা নিশ্চিত করতে হবে।"
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, "বাংলাদেশে এখন একটা মুক্ত পরিবেশ আছে ঠিকই, তবে এই সুযোগ কত দিন টিকে থাকবে তা আমরা কেউ জানি না। ধীরে ধীরে গণতন্ত্র সংকুচিত হয়ে আসছে, কথা বলার জায়গাগুলো সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। এই সংকোচন ঠেকাতে হবে আপনাদের আমাদের সবাইকে মিলেই। বিরোধী দল সংসদে এবং সংসদের বাইরে—সবখানেই কথা বলবে।"
গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের সঙ্গে সহিংসতাকে মিলিয়ে দেখার প্রবণতার সমালোচনা করে তিনি আরও জানান, "গণতান্ত্রিকভাবে যখন আমি প্রতিবাদ জানাচ্ছি, সেটাকে হঠকারিতা বলা হচ্ছে, বাস ভাঙচুরের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। আমরা আগের মতো রাস্তায় বসে বিক্ষোভ চাই না।"
ভবিষ্যতে রাজপথে আন্দোলনের ক্ষেত্রে আইনি হয়রানির আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, "ভবিষ্যতে বিরোধী দল রাজপথে নামলে সেটিকে বাস ভাঙচুরের সঙ্গে মিলিয়ে যদি মামলা বা গ্রেপ্তারের অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা হয়, তবে তা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।"
রাজনৈতিক দল ও সাংবাদিকদের পারস্পরিক দায়িত্ব প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেন, রাজনৈতিক দলগুলো তাদের রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করবে, আর সাংবাদিকদের দায়িত্ব হবে কোনো চাপ বা পক্ষপাত ছাড়া সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রকাশ করা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিকেরা ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন এবং পরবর্তী সময়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করার বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন।