ঝিনাইদহের মহেশপুরে বুকসমান কাদার মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে বেঁধে রাখা চারটি মহিষকে উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীগুলোর করুণ অবস্থার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজ্জাদ হোসেনের নজরে আসে। তার দ্রুত হস্তক্ষেপে রোববার (১৬ আগস্ট) মহিষগুলোকে কাদা থেকে উদ্ধার করে নিরাপদ ও শুকনা স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার স্বরূপপুর ইউনিয়নের গোকুলনগর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আলীম প্রায় ছয় মাস ধরে চারটি মহিষকে বুকসমান কাদার মধ্যে বেঁধে রেখেছিলেন। কাদার মধ্যেই প্রাণীগুলোকে খাবার খেতে, দাঁড়িয়ে থাকতে এবং ঘুমাতে হতো। দীর্ঘ সময় ধরে এমন অস্বাস্থ্যকর ও কষ্টকর পরিবেশে থাকার ফলে মহিষগুলোর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মহিষগুলোকে কাদা থেকে সরিয়ে নিরাপদ স্থানে রাখার অনুরোধ করা হলেও আব্দুল আলীম তা কর্ণপাত করেননি, যা এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা এই নির্মম দৃশ্য ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে তা দ্রুত ভাইরাল হয়। ভিডিওটি দেখার পরপরই মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন উদ্ধারে পদক্ষেপ নেন এবং প্রশাসনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে মহিষ চারটিকে কাদা থেকে মুক্ত করে স্থানান্তর করা হয়।
এই ঘটনায় স্থানীয় পশুপ্রেমী নাজমুল হোসেন বলেন, "প্রাণীরা মানুষের মতো নিজেদের কষ্টের কথা মুখে বলতে পারে না। কিন্তু তাদেরও তো স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। চারটি মহিষকে দীর্ঘদিন বুকসমান কাদার মধ্যে আটকে রাখার দৃশ্যটি সত্যিই হৃদয়বিদারক ছিল।"
মালিকের আচরণ নিয়ে তার বৃদ্ধা মা সত্যা খাতুন বলেন, "ছেলেকে আমি বহুবার বলেছি মহিষগুলোকে ভালো জায়গায় এনে বাঁধতে। কিন্তু সে কারও কথা শুনত না, উল্টো আমরা শুকনা জায়গায় রাখতে বললে আমাদের ওপর চড়াও হতো এবং গালিগালাজ করত।"
বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজ্জাদ হোসেন জানান, মহিষগুলোকে উদ্ধার করে শুকনা স্থানে রাখা হয়েছে। এর মালিককে ১৫ দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে মহিষগুলোর জন্য পর্যাপ্ত জায়গা, শুকনা মেঝে, সুষম খাবার-পানি এবং নিরাপদ বসবাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।