বাড়ির চারপাশ কাদায় সয়লাব। গত তিন মাস সেই কাদার মধ্যে ২৪ ঘণ্টা বাঁধা ছিল আবদুল আলিমের চারটি মহিষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবর পেয়ে গতকাল রোববার রাতে মহিষগুলোকে উদ্ধার করলেন ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।
উপজেলার গোকুলনগর গ্রামের আবদুল আলিমের বাড়িতে গিয়ে মহিষগুলো উদ্ধার করে বাড়ির পাশেই শুকনা জায়গায় নেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন ইউএনও মো. সাজ্জাদ হোসেন। সেই সঙ্গে তিনি ১৫ দিনের মধ্যে মহিষগুলো রাখার জন্য ভালো জায়গা তৈরির নির্দেশনা দিয়েছেন।
.আমরা এভাবে প্রাণীগুলোকে কষ্ট না দিয়ে বেচে ফেলতে বলেছিলাম, কিন্তু কথা শোনেনি আলিম। বাড়ির মেয়েরা ভয়ে মহিষগুলোর কাছে যেতে পারেনি, তাই সরানো সম্ভব হচ্ছিল না।সত্য বেগম, গৃহকর্তা আব্দুল আলিমের মা
সাজ্জাদ হোসেন জানান, ওই পরিবারকে মহিষগুলোর জন্য নিরাপদ জায়গা ও পর্যাপ্ত খাবারের সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ১৫ দিনের মধ্যে এই প্রাণীগুলোর জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে না পারলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, গোকুলনগর গ্রামের মৃত ফজর আলীর ছেলে আবদুল আলিম তাঁর চারটি মহিষ বাড়ির পাশে প্রচণ্ড কাদার মধ্যে বেঁধে রাখেন। আগে মহিষগুলো মাঠে চরাতে নিয়ে গেলেও বর্ষা মৌসুমের তিন মাস ধরে তা সম্ভব হচ্ছে না। সারাক্ষণ এই কাদার মধ্যে বাঁধা ছিল, বিষয়টি এলাকার অনেকে মেনে নিতে পারছিলেন না। মহিষগুলোকে কাদা থেকে সরানোর জন্য আবদুল আলিমকে কেউ কেউ অনুরোধ করেছেন। কিন্তু আলিম কোনো ব্যবস্থা নেননি।
.আমি মহিষগুলোর এই অবস্থা দেখে ফেসবুকে পোস্ট করি। বিষয়টি নজরে এলে গতকাল সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন এসে মহিষগুলোকে কাদা থেকে মুক্ত করেন।’নাজমুল হাসান, স্থানীয় পরিবেশকর্মী
বিষয়টি নজরে আসে স্থানীয় পরিবেশকর্মী নাজমুল হাসানের। তিনি মহিষগুলোর অবস্থার ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেন। তা নজরে আসে মহেশপুরের ইউএনও সাজ্জাদ হোসেনের। পরে গতকাল সন্ধ্যার পর আবদুল আলিমের বাড়িতে ছুটে যান। সঙ্গে নেন পরিবেশকর্মী নাজমুল হাসানকে। কাদায় বন্দিদশা থেকে মহিষ চারটিকে মুক্ত করেন ইউএনও।
এ সময় বাড়িতে ছিলেন না আবদুল আলিম। তাঁর মা সত্য খাতুন বলেন, ‘আমরা এভাবে প্রাণীগুলোকে কষ্ট না দিয়ে বেচে ফেলতে বলেছিলাম, কিন্তু কথা শোনেনি আলিম। বাড়ির মেয়েরা ভয়ে মহিষগুলোর কাছে যেতে পারেনি, তাই সরানো সম্ভব হচ্ছিল না।’
.পরিবেশকর্মী নাজমুল হাসান জানান, গ্রামের লোকজনও এই মহিষগুলোর কষ্ট দেখে কষ্ট পেতেন। কিন্তু পাষণ্ড আবদুল আলিম জীবন্ত প্রাণীগুলোকে এই কাদার মধ্য থেকে বের করেননি। তিনি বলেন, ‘আমি মহিষগুলোর এই অবস্থা দেখে ফেসবুকে পোস্ট করি। বিষয়টি নজরে এলে গতকাল সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন এসে মহিষগুলোকে কাদা থেকে মুক্ত করেন।’