নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার মহাদেও নদী থেকে অনুমোদন ছাড়াই প্রকাশ্যে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পরিবহন করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই অবৈধ কারবার বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার বদলে উল্টো কলমাকান্দা উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বালু সিন্ডিকেটকে সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে।

জেলা প্রশাসনের নির্দেশের পরও বালু জব্দ না করে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাদেও নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। এতে নদীর তীর, সংলগ্ন কৃষিজমি ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টি নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সুকুমার রায়কে অবহিত করেন স্থানীরা। বিষয়টি জানার পরপরই তিনি কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এন. এম. আবদুল্লাহ-আল-মামুনকে ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে অবৈধ বালু জব্দ ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

তবে অভিযোগ উঠেছে, সুনির্দিষ্ট জায়গা ও প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ সরবরাহ করা সত্ত্বেও ইউএনও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো দৃশ্যমান অভিযান পরিচালনা করেননি। পরে কৈলাটি ইউনিয়নের ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা নজরুল ইসলামকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হলেও তিনি অবৈধ বালু জব্দ করার বদলে তা দ্রুত অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার মৌখিক নির্দেশ দেন।

স্থানীয়দের আরও গুরুতর অভিযোগ, ওই ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা গ্রহণ করেন। মঙ্গলবারও তিনি বালু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা মাসোহারা নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয় কয়েকজন। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

প্রশাসনের এমন ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের যোগসাজশ ও সমঝোতা ছাড়া প্রকাশ্যে এভাবে নদীর পরিবেশ ধ্বংস করে বালু উত্তোলন সম্ভব নয়। বারবার অভিযোগ দেওয়ার পরও কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় বালু ব্যবসায়ীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে কলমাকান্দার ইউএনও এন. এম. আবদুল্লাহ-আল-মামুন জানান, এসিল্যান্ড ছুটিতে থাকায় ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারীকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিল। তবে অবৈধ বালু জব্দ না করে কেন অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হলো এমন প্রশ্ন করতেই তিনি ফোনের সংযোগ কেটে দেন।

অন্যদিকে নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সুকুমার রায় বলেন, ‘ঘটনাটি শোনার সঙ্গে সঙ্গেই আইনগত ব্যবস্থা নিতে ইউএনওকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। জেলা পর্যায় থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে যাওয়া সম্ভব হয় না। তবে প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা যদি অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের সুবিধা দিয়ে থাকেন, তবে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, এর আগে গত ৬ আগস্ট ‘প্রশাসনকে ম্যানেজ করে গড়ে উঠেছে অবৈধ বালু সিন্ডিকেট’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পরও নদী রক্ষায় কোনো কার্যকর পরিবর্তন না আসায় এবং খোদ তদারকি কর্মকর্তাদের বিতর্কিত ভূমিকায় চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় পরিবেশবাদীরা।