অ্যানাল ফিসার বা গেজ বলতে মলদ্বারের আস্তরণে ছোট একটি ছিঁড়ে যাওয়া বা ফেটে যাওয়াকে বোঝায়। অনেক ক্ষেত্রে এর পেছনে থাকে কোষ্ঠকাঠিন্য। এ সমস্যাটি তীব্র পর্যায়ের পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী রূপও নিতে পারে।

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আঁশযুক্ত বা ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া, গরম পানিতে হিপ বাথ বা মলদ্বার ভেজানোর মতো সহজ পদক্ষেপে আরাম মিলতে পারে। তবে কিছু ক্ষেত্রে রোগের ধরন ও স্থায়িত্ব অনুযায়ী মলদ্বারের ফিসারের চিকিৎসায় ওষুধ বা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনও হতে পারে।

দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া, কম আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া, স্থূলতা, বিলম্বিত প্রসব, প্রদাহজনক অন্ত্রের রোগ—এগুলো অ্যানাল ফিসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ক্রোনে রোগ বা আলসারেটিভ কোলাইটিস বা ক্রনস ডিজিজ অ্যানাল ফিসারের ঝুঁকি বাড়ায়।

‘প্রাইভেট এরিয়া’ কেন কালচে হয়ে যাচ্ছে, সমাধান কী — এ প্রসঙ্গের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সমস্যায় যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে, তার মধ্যে রয়েছে মলত্যাগের সময় মলদ্বারে ব্যথা অথবা জ্বালাপোড়া অনুভূত হওয়া। অনেক সময় মলের ওপর উজ্জ্বল লাল রক্ত লেগে থাকতে দেখা যায়। মলদ্বারের চারপাশে চুলকানি অথবা জ্বালাও হতে পারে। মলদ্বারের ত্বকে লক্ষণীয় ফাটল থাকলে এবং ক্রনিক ফিসারের ক্ষেত্রে মলদ্বারের ফিসারের পাশে ত্বকের অংশে স্কিন ট্যাগ অথবা সামান্য পিণ্ডও দেখা যেতে পারে।

blockquote সঠিক সময়ে এ রোগের চিকিৎসা না করলে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, পুনরাবৃত্তি, সংক্রমণ, ফোড়া বা ফিস্টুলাও হতে পারে।/blockquote

চিকিৎসকেরা সাধারণত ইতিহাস পর্যালোচনার পাশাপাশি শারীরিক পরীক্ষা করে থাকেন। এতে পায়ু অঞ্চলের যত্নশীল পরিদর্শন অন্তর্ভুক্ত থাকে। অন্তর্নিহিত কোনো সমস্যা আছে কি না—তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পরীক্ষার প্রয়োজনও হতে পারে। যেমন প্রক্টোসকপি ও কোলনোস্কপি। প্রক্টোসকপি হচ্ছে মলদ্বার ঘনিষ্ঠভাবে পরীক্ষা করার একটি পদ্ধতি, যেখানে একটি ছোট, আলোকিত টিউব ব্যবহার করা হয়। কোলনোস্কপিতে প্রক্রিয়া চলাকালীন পুরো বৃহদন্ত্র বা কোলন দেখার জন্য মলদ্বারে ক্যামেরাসহ একটি নমনীয় টিউব ঢোকানো হয়।

মলদ্বারের ফাটল সাধারণত বাড়িতেই সঠিক যত্নে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নিরাময় হতে পারে। আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া বাড়ালে তা মল নরম করতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে, ফলে পায়ু ফাটার ঝুঁকিও কমে। তবে উপসর্গগুলো প্রাকৃতিক প্রতিকারের মাধ্যমে দূর না হলে উপসর্গের মাত্রা এবং রোগের ধরন অনুযায়ী চিকিৎসা নির্ধারণ করতে হয়।

চিকিৎসার অংশ হিসেবে পায়ুপথে ক্রিম বা মলম প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। বোটুলিনাম টক্সিন ইনজেকশন দেওয়া হয় অনেক সময়। এটি অ্যানাল স্ফিঙ্কটার পেশি শিথিল করতে সাহায্য করতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে রক্তচাপের ওষুধ সেবনে রক্তচাপ কমে মলদ্বারের স্ফিঙ্কটারকে শিথিল করে। গুরুতর বা দীর্ঘস্থায়ী ফিসারের ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার করতেও হতে পারে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না নিলে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, পুনরাবৃত্তি, সংক্রমণ, ফোড়া বা ফিস্টুলাও হতে পারে।

রোগ প্রতিরোধ ও উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকরা সাধারণত খাদ্যাভ্যাস ও দৈনন্দিন যত্নের দিকে গুরুত্ব দেন। খাদ্যতালিকায় ফাইবার বা আঁশযুক্ত খাবার বাড়ানো, মল সফটনার ব্যবহার করে মল নরম করা, পর্যাপ্ত পানি পান করা—এগুলো সহায়ক হতে পারে। দিনে কয়েকবার ১০-১৫ মিনিট গরম জলে ভিজিয়ে রাখার কথাও বলা হয়। একই সঙ্গে চাপ প্রয়োগ না করে স্বাভাবিক মলত্যাগের অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর জোর দিতে হয়।

ডা. এম এ করিম, সহকারী অধ্যাপক, সার্জারি বিভাগ, মার্কস মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকা