ভূমধ্যসাগরে ভাসমান একটি রাবার নৌকা থেকে ২৯ জন বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁরা মিসরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গতকাল রোববার মিসরের কায়রোর বাংলাদেশ দূতাবাস এই তথ্য জানিয়েছে।

দূতাবাসের প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানবপাচারকারী চক্রের সহায়তায় লিবিয়ার তবরুক থেকে গ্রিসের উদ্দেশ্যে ঝুঁকিপূর্ণভাবে যাত্রা করেছিলেন এই অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। তবে যাত্রাপথে নৌকাটি দিকভ্রষ্ট হয়ে মিসরের মারসা মাতরুহ এলাকার উপকূলে এসে পৌঁছায়। সেখানে স্থানীয় পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ১৮ জন গুরুতর অসুস্থ ও অচেতন অবস্থায় ছিলেন। তাঁদের চিকিৎসার জন্য মিসরের মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বিষয়টি জানতে পেরে দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মো. জাকির হোসেন স্থানীয় পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পুলিশের মাধ্যমে জানা যায়, তাঁদের তত্ত্বাবধানে ২৯ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। পরবর্তীতে হাসপাতালের এক কর্মীর সহায়তায় চিকিৎসাধীন বাংলাদেশি আবদুল করিমের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন জাকির হোসেন।

আবদুল করিমের ভাষ্যের বরাতে দূতাবাস জানায়, গত ৩ আগস্ট ৩৮ জন বাংলাদেশি ও ৪ জন সুদানি সহ মোট ৪২ জন লিবিয়ার তবরুক থেকে গ্রিসের উদ্দেশ্যে একটি রাবার নৌকায় যাত্রা করেন। নৌকাটি একটি স্পিডবোট ইঞ্জিন দিয়ে চলছিল, তবে এতে কোনো নেভিগেশন ব্যবস্থা ছিল না। যাত্রার আগে তাঁদের জানানো হয়েছিল যে, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে পৌঁছাতে প্রায় ৩৬ ঘণ্টা সময় লাগবে। কিন্তু এক পর্যায়ে জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ায় নৌকাটি দিকভ্রষ্ট হয় এবং প্রায় ১০ দিন ভূমধ্যসাগরে ভাসমান অবস্থায় থাকে। অবশেষে ১৩ আগস্ট নৌকাটি মিসরের মারসা মাতরুহ উপকূলে এসে পৌঁছায়।

দূতাবাস আরও জানিয়েছে, আবদুল করিমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় তীব্র গরম, প্রচণ্ড সূর্যের তাপ এবং খাদ্য ও পানির অভাবে ৯ জন বাংলাদেশি ও ১ জন সুদানি সহ মোট ১০ জন অসুস্থ হয়ে মারা যান। এক পর্যায়ে মৃতদেহগুলো পচতে শুরু করায় জীবিত যাত্রীরা সেগুলো সমুদ্রে ভাসিয়ে দিতে বাধ্য হন।

ঘটনাটি জানার পর থেকে স্থানীয় পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে দূতাবাস। মিসরে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশিদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় কনস্যুলারসহ অন্যান্য সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসাধীন বাংলাদেশিরা সুস্থ হয়ে উঠলে মিসরের প্রচলিত আইন অনুসরণ করে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের দ্রুততম সময়ে বাংলাদেশে পাঠাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।