কুমিল্লার দাউদকান্দিতে একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষের পর রয়েল কোচ পরিবহনের একটি দোতলা স্লিপার বাসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে এই দুর্ঘটনায় কোনো যাত্রী হতাহত হননি। আগুনের তীব্রতায় বাসটির সামনের অংশসহ পুরো গাড়িটি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) ভোর ৫টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জ এলাকায় রিলায়েবল ফিলিং স্টেশনের কাছে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, রয়েল কোচ পরিবহনের বাসটি কক্সবাজার থেকে গাজীপুরের উদ্দেশ্যে ঢাকামুখী লেনে যাচ্ছিল। পথে মহাসড়কে সামনে থাকা একটি ট্রাকের সঙ্গে বাসটির ধাক্কা লাগে, যার ফলে বাসের সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধারণা করা হচ্ছে, এরপর বাসের গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনের ঝলক দেখার পরপরই দ্রুত বাস থেকে নেমে যান যাত্রীরা। কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
বাসটিতে ১০ থেকে ১২ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রী জসিম উদ্দিন পটিয়া থেকে গাজীপুর যাচ্ছিলেন। তিনি জানান, "আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে ঘুম ভেঙে যায়। পরে দেখি সবাই বাস থেকে নেমে যাচ্ছে। আমিও দ্রুত নেমে যাই। সবাই নেমে যাওয়ার পর অন্য একটি বাসে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এমন সময় বাসটিতে আগুন ধরে যায়।"
আরেক যাত্রী রহমান বলেন, "একটি ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লাগার পরপরই আমরা বাস থেকে নেমে যাই। কিছুক্ষণ পরই গাড়িতে আগুন ধরে যায়।"
স্থানীয় টামটা গ্রামের বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন মোল্লা জানান, বাসে আগুন লাগার খবর পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। যাত্রীরা নিরাপদে বের হয়ে আসতে পারলেও আগুনের ভয়াবহতা ছিল অনেক বেশি, যার ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো বাসটি পুড়ে যায়।
ঘটনার বিষয়ে জানতে রয়েল কোচের অফিশিয়াল নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই ফারুক মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। যাত্রীরা আগেই বাস থেকে নেমে যাওয়ায় বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। ঘটনাস্থলে বাসের চালক বা হেলপার কাউকে পাওয়া যায়নি। বাসটি আমরা থানায় নিয়ে আসছি। এখনো কেউ বাসটি নিতে বা যোগাযোগ করতে আসেনি।"