ঘুষ, চাঁদা দাবি এবং আসামির স্বজনদের নির্যাতনের অভিযোগে সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ নেয়ামত উল্লাহর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একজন ভুক্তভোগী নারীর করা এই অভিযোগ আমলে নিয়ে বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মাহাবুবুর রহমান এই আদেশ প্রদান করেন। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)।

মামলার বাদিনী সাভারের পশ্চিম রাজাশন এলাকার বাসিন্দা সুরাইয়া বেগম (৫৪)। এই মামলায় ১ নম্বর আসামি হিসেবে সাভার মডেল থানার এসআই মোহাম্মদ নেয়ামত উল্লাহ এবং ২ নম্বর আসামি হিসেবে বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা মাহাবুব হোসেন সামির ওরফে ফেলসি সামিরকে (৩২) করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও তিনজনের নাম উল্লেখসহ বেশ কয়েকজন অজ্ঞাতনামাকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা দীর্ঘ সময় ধরে বাদিনীর ছেলের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় শামীমের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও টাকা ছিনতাই করা হয়। পরবর্তীতে বাদিনীর ছেলে শামীম রেজাকে একটি মামলায় গ্রেপ্তার করে সাভার থানায় আনা হয় এবং সেখানে রিমান্ডের ভয় দেখিয়ে নির্যাতন চালানো হয়। অভিযোগ করা হয়েছে যে, রিমান্ডে মারধর বন্ধ করার শর্তে তার কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা ও দুটি দামি মোবাইল সেট আদায় করা হয়েছে।

ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী মো. নজরুল ইসলাম জানান, "মামলার বাদিনী বিজ্ঞ সিজিএম সাভার আমলী আদালতে উপস্থিত হয়ে ২০০ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেছেন। বিজ্ঞ আদালত জবানবন্দি ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে সন্তুষ্ট হয়ে মামলাটি আমলে নিয়েছেন। পরে পিবিআইকে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করেছেন।"