রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের প্রকৃত মানচিত্র অনুসারে সীমানা জরিপ করে হ্রদের ভেতরে থাকা অবৈধ স্থাপনা মালিকদের নাম-ঠিকানাসহ প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
রাঙামাটির জেলা প্রশাসক ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতি এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চার বছর আগের এক রিট আবেদনের ধারাবাহিকতায় করা সম্পূরক এক আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রোববার এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৬ জানুয়ারি তারিখ ধার্য করা হয়েছে।
এর আগে ‘সবাই মিলে কাপ্তাই হ্রদ দখল’ শিরোনামে ২০২২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোতে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। হ্রদে অবৈধ দখল বন্ধ ও জরিপ করে হ্রদের সীমানা নির্ধারণ ও অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে ওই বছরের ১৬ অক্টোবর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে রিট করা হয়।
রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০২২ সালের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্ট রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন। কাপ্তাই হ্রদে আর যাতে মাটি ভরাট বা স্থাপনা নির্মাণ না করা হয়, তা নিশ্চিতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে হ্রদের সীমানা জরিপ করে অবৈধ দখলদারদের তালিকা আদালতে দাখিল করতে রাঙামাটির জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে কাপ্তাই হ্রদের সীমানা জরিপ না হওয়ায় জরিপ করে অবৈধ দখলদারদের তালিকা দাখিলের নির্দেশনা চেয়ে গত বৃহস্পতিবার সম্পূরক ওই আবেদনটি করে এইচআরপিবি। আবেদনের ওপর আজ শুনানি হয়।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তাঁকে সহায়তা করেন আইনজীবী সঞ্জয় মন্ডল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মুহাম্মদ আজমী।
পরে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘২০২২ সালের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্ট রাঙামাটির জেলা প্রশাসককে কাপ্তাই হ্রদের সীমানা জরিপ করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন। জেলা প্রশাসক ইতিমধ্যে হলফনামার মাধ্যমে জরিপ করার জন্য জরিপ অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছেন। এই প্রেক্ষাপটে হ্রদের সীমানা জরিপ করে অবৈধ দখলদারদের তালিকা দাখিলের নির্দেশনা চেয়ে সম্পূরক আবেদনটি করা হয়।’
আদেশের বিষয়ে মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘হাইকোর্ট চার মাসের মধ্যে কাপ্তাই হ্রদের প্রকৃত ম্যাপ অনুসারে সীমানা জরিপ করে হ্রদের সীমানার ভেতরে থাকা অবৈধ স্থাপনা মালিকদের নাম-ঠিকানাসহ প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন। রাঙামাটির জেলা প্রশাসক ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকে যৌথভাবে জরিপ করে অবৈধ দখলদারদের তালিকাসহ প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।’