বগুড়ার শেরপুরের রামনগর গ্রামে, যা স্থানীয়ভাবে ‘পাখি কলোনি’ হিসেবে পরিচিত, সেখানে গাছ কেটে পাখির বাসা, ডিম ও ছানা নষ্ট করার অভিযোগে আজাহার আলী (৬৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে রামনগর গ্রামে আজাহারের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আজাহার বাড়ির দেয়াল টপকে পাশের জঙ্গলে পালিয়ে যান। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়। আজ শনিবার তাঁকে আদালতে পাঠানোর কথা রয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, আজাহার আলী তাঁর ব্যক্তিগত জমির সাতটি জলপাই ও পীতরাজগাছ কেটে ফেলেন। ওই গাছে পরিযায়ী শামুকখোলসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বাসা বেঁধেছিল। গাছ কাটার ফলে বাসাগুলো মাটিতে পড়ে এবং পাখির ডিম ও ছানা নষ্ট হয়ে যায়।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বন বিভাগের শেরপুর রেঞ্জের কর্মকর্তা মো. সালাহ উদ্দিন পারভেজ বাদী হয়ে গত মঙ্গলবার রাতে শেরপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলায় আজাহার আলীকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরপুর থানার উপপরিদর্শক শাহাদাত হোসেন বলেন, "মামলা করার পর তদন্তে গাছ কেটে পাখির বাসা ও ডিম নষ্ট করার সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নষ্ট হওয়া জিনিসপত্রের আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।"
স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন পরিবেশ প্রতিরক্ষা সংস্থার সভাপতি সোহাগ রায় জানান, রামনগর গ্রামের বিভিন্ন গাছে পরিযায়ী শামুকখোলসহ নানা প্রজাতির পাখি বাসা বাঁধে, যার কারণে এলাকাটি ‘পাখি কলোনি’ নামে পরিচিত। তিনি আরও জানান, গত ৮ আগস্ট গাছ কাটার সময় পাখির বাসা মাটিতে পড়ে অনেক ডিম নষ্ট ও ছানা মারা যায়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়।