বহুল প্রতীক্ষিত তিস্তা মহাপরিকল্পনার মূল কাজ আগামী বছর থেকে শুরু হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি জানান, এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্থায়ী ও টেকসই সুফল নিশ্চিত করতে পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করেই সরকার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় যেতে চায়।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার সানিয়াজান নদীতে সেতু নির্মাণকাজ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ত্রাণমন্ত্রী জানান, শুষ্ক মৌসুমে তিস্তার পানি সংকট নিরসন এবং পানি ধরে রাখার উদ্দেশ্যে বর্তমান ব্যারাজের ভাটিতে (ডাউনে) নতুন আরেকটি ব্যারাজ নির্মাণের পরামর্শ দিয়েছে কারিগরি (টেকনিক্যাল) কমিটি। তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা ও কারিগরি বিষয়গুলো পর্যালোচনার জন্য আগামী ১৮ আগস্ট বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, "তিস্তা আমাদের জীবন-সংগ্রামের সঙ্গে জড়িত। রংপুরের পাঁচ জেলার দুই কোটি মানুষের দাবির মুখে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও এই আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এটি একটি বিশাল প্রকল্প, তাই জনগণের অর্থ যেন অকার্যকর কোনো খাতে ব্যয় না হয়, সে জন্য একটু ধৈর্য ধরে টেকসই পরিকল্পনায় এগোতে হচ্ছে।"
দেশের বন্যা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী চট্টগ্রাম, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারসহ ক্ষতিগ্রস্ত সাতটি জেলার কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও অবকাঠামো পুনর্বাসনে সরকারের তিন স্তরের কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। তাৎক্ষণিক ত্রাণ ও শুকনো খাবার পৌঁছে দেওয়ার পর বর্তমানে ডুবে যাওয়া কৃষি জমির ক্ষতিপূরণে বীজ প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি এলজিইডি ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট দ্রুত সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে বলে তিনি জানান।
এর আগে ত্রাণমন্ত্রী হাতীবান্ধায় সমতলের চা-বাগান পরিদর্শন করেন এবং পাটগ্রাম থানা ভবনের নতুন নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন।