ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামের টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের রেকর্ড এখন বাংলাদেশের দখলে। নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন দল প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান করে অস্ট্রেলিয়ার ২৩ বছরের পুরোনো রেকর্ডটি ভেঙে দিয়েছে।

এর আগে ২০০৩ সালে এই মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৭ উইকেটে ৪০৭ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেছিলেন স্টিভ ওয়াহ। দীর্ঘ বিরতির পর একই মাঠে ফিরে স্বাগতিকদের সেই রেকর্ডটি মুছে ফেলল বাংলাদেশ।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেও এটিই এখন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ টেস্ট সংগ্রহ। এর আগে ২০০৩ সালের কেয়ার্নস সফরে খালেদ মাহমুদের দল ২৯৫ রান করেছিল, যা ছিল তাদের সর্বোচ্চ। নতুন এই সংগ্রহের মাধ্যমে পুরোনো রেকর্ডটি ১৩১ রানের ব্যবধানে পেছনে ফেলে দিল বাংলাদেশ।

এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সবচেয়ে বেশি সময় ব্যাটিংয়ের নতুন রেকর্ডও গড়েছে বাংলাদেশ। ডারউইনে তাদের প্রথম ইনিংস স্থায়ী হয়েছে ১৩৮ ওভার। এর আগে ২০০৬ সালে ফতুল্লা টেস্টে ৪২৭ রান করার পথে ১২৩ দশমিক ৩ ওভার ব্যাটিং করে রেকর্ড গড়েছিল তারা।

তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজেদের সর্বকালের সর্বোচ্চ সংগ্রহের রেকর্ডটি মাত্র এক রানের জন্য স্পর্শ করতে পারেনি বাংলাদেশ। ফতুল্লার সেই ৪২৭ রানের ইনিংসটিই এখনো দুই দলের লড়াইয়ে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ, আর ডারউইনের ৪২৬ রান এখন দ্বিতীয় স্থানে।

রেকর্ড গড়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তানজিদ হাসান (১০১), নাজমুল হোসেন শান্ত (৮৪) এবং মেহেদী হাসান মিরাজ (৬৫)। এছাড়া মুমিনুল হক করেন ৪৯ রান। মিরাজ ও লেজের ব্যাটারদের প্রচেষ্টায় শেষ চার উইকেটে ৭৫ রান যোগ করে দলকে ৪২৬ রানের সংগ্রহে পৌঁছে দেয় বাংলাদেশ।

প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দিয়ে ২২৮ রানের লিড পায় বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থাকার এই প্রথম কীর্তি এটি। তৃতীয় দিনের সমাপ্তিতে দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৬১ রান। স্বাগতিকরা এখনো বাংলাদেশের চেয়ে ৬৭ রানে পিছিয়ে রয়েছে।

বাংলাদেশের এই রেকর্ড গড়ার দিনে ব্যক্তিগত মাইলফলক স্পর্শ করেছেন জশ হ্যাজলউড। ৮৯ রানে ৬ উইকেট নেওয়ার পথে নবম অস্ট্রেলিয়ান বোলার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে ৩০০ উইকেটের ক্লাবে প্রবেশ করেছেন তিনি।