যুক্তরাষ্ট্রের সংগীতপ্রেমীদের মাঝে দক্ষিণ কোরীয় ব্যান্ড বিটিএসের পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা এখন রেকর্ড পর্যায়ে। সংগীতবিষয়ক তথ্য ও বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান লুমিনেটের দ্বিতীয় প্রান্তিকের এক জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে।
লুমিনেটের ওই জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ৪২ শতাংশ সংগীতশ্রোতা বিটিএসকে চেনেন। গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে এই হার ছিল ৪৩ শতাংশ, যা নির্দেশ করে দলটি তাদের সর্বোচ্চ পরিচিতির স্তরের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। সব শিল্পী মিলিয়ে গড় পরিচিতির হার যেখানে ২৪ শতাংশ, সেখানে বিটিএসের পরিচিতি তার চেয়ে ১৮ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, জরিপে অন্তর্ভুক্ত ২২টি কে-পপ দলের গড় পরিচিতির হার মাত্র ১১ শতাংশ।
বয়সভেদে বিটিএসের পরিচিতির ক্ষেত্রে ভিন্নতা দেখা গেছে। ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের মধ্যে ৪৩ শতাংশ এবং ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ৫৯ শতাংশ বিটিএসকে চেনেন। এছাড়া ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সীদের অর্ধেকের বেশি এই দল সম্পর্কে জানেন।
পরিচিতির পাশাপাশি দলটির প্রতি শ্রোতাদের ইতিবাচক মনোভাবও বৃদ্ধি পেয়েছে। যারা বিটিএস সম্পর্কে জানেন, তাদের মধ্যে ৪৬ শতাংশ এই ব্যান্ডটিকে পছন্দ করেন। ২০২১ সালে লুমিনেট জরিপ শুরু করার পর এটিই দলটির সর্বোচ্চ জনপ্রিয়তার হার; সে সময় এই হার ছিল ৩৪ শতাংশ। প্রতিটি বয়সসীমার শ্রোতাদের মধ্যেই জনপ্রিয়তার হার ৪০ শতাংশের বেশি, যার মধ্যে ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের মধ্যে তা সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ। সামাজিক মাধ্যমে ‘উই স্ট্যান্ড উইথ বিটিএস’ হ্যাশট্যাগটি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
ভিনাইল রেকর্ড বিক্রিতেও নতুন ইতিহাস গড়েছে বিটিএস। তাদের পঞ্চম স্টুডিও অ্যালবাম ‘আরিরাং’ যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম সপ্তাহে ৫ লাখ ১৬ হাজার কপি বিক্রি হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ২ লাখ ৮ হাজার কপি ভিনাইল। অর্থাৎ মোট বিক্রির প্রায় ৪০ শতাংশই ভিনাইল রেকর্ড। ১৯৯১ সালে অ্যালবাম বিক্রির তথ্য সংগ্রহ শুরু হওয়ার পর থেকে কোনো সংগীত দলের অ্যালবামের ভিনাইল বিক্রিতে এটি সর্বোচ্চ রেকর্ড। লুমিনেটের মতে, ভিনাইল বিক্রির এই প্রবণতা কে-পপের প্রচলিত সিডিনির্ভর বিক্রির ধরন থেকে আলাদা এবং এটি মূলধারার জনপ্রিয় পপ শিল্পীদের অ্যালবাম কেনার অভ্যাসের সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
স্ট্রিমিংয়ের ক্ষেত্রেও ‘আরিরাং’ অ্যালবামের সাফল্য চোখে পড়ার মতো। প্রকাশের প্রথম ১৬ সপ্তাহে বিশ্বজুড়ে এই অ্যালবামের গানগুলো প্রায় ৫৭০ কোটি বার স্ট্রিম হয়েছে। একই সময়ে বিটিএসের পুরোনো গানগুলোর স্ট্রিমিংও বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে সব মিলিয়ে ওই সময়ে দলটির গান ৮৭০ কোটি বার স্ট্রিম হয়েছে। এছাড়া ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালের বিরতিতে পরিবেশনার পর ‘আরিরাং’ পুনরায় বিলবোর্ড ২০০-এর শীর্ষ ১০-এ জায়গা করে নেয়।
বিটিএসের রেকর্ড লেবেল বিগ হিট মিউজিক জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে বিটিএস এখন আর কেবল নির্দিষ্ট ভক্তগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তারা মূলধারার সংগীতশ্রোতাদের মধ্যেও একটি বিশাল শ্রোতাগোষ্ঠী তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।