আবাসন ভাতায় অন্তর্ভুক্তির দাবিতে ২৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখার পর আজ সোমবার বেলা ১১টায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের তালা খুলে দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তখন ভবন থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রার ও প্রক্টর। আগামীকাল মঙ্গলবার দুপুরে শিক্ষার্থীদের দাবি নিয়ে প্রশাসন বৈঠকে বসবে—এমন আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা তাঁদের আন্দোলন স্থগিত করেন। এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা সব ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

আবাসন ভাতার দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম ব্যাচের (২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

গত বৃহস্পতিবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আবাসন ভাতার তালিকা প্রকাশ করে। প্রথম তালিকায় ২০১৯-২০ থেকে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ৮ হাজার ৩৩০ শিক্ষার্থী এবং দ্বিতীয় তালিকায় আরও ১ হাজার ৯৮৯ শিক্ষার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে আবাসন-সংকটে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের এ তালিকার প্রথম কিস্তির আওতায় আনা হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁদের পরে বিবেচনা করা হবে। এতে ওই ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হন। তাঁরা গতকাল রোববার প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে দুপুর ১২টার দিকে আন্দোলনকারীরা ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং আজ বেলা ১১টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রার ও প্রক্টরকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে আমাদের সহকর্মীরা অবরুদ্ধ ছিলেন। শিক্ষার্থীদের আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার কথা বলেছি। আগামীকাল বেলা দুইটায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, সিন্ডিকেট সদস্য, ক্রিয়াশীল সংগঠনের প্রতিনিধি, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিসহ সবাইকে নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে আবাসন ভাতায় তাদের (২০তম ব্যাচ) অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে। এরপর শিক্ষার্থীরা অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত করে গেট খুলে দেয়।’

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের দাবি হচ্ছে, সম্পূরক বৃত্তির প্রথম কিস্তিতে ২০ ব্যাচকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কিন্তু প্রশাসন খোঁজখবর নেয়নি। আমরা যৌক্তিক সমাধান চাই।’

লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আলিমুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীকে সম্পূরক বৃত্তি দেওয়ার বিষয়ে শিক্ষক সমিতি একটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আগামীকাল শিক্ষক সমিতি সিন্ডিকেট সদস্য ও সব ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনের নেতারা বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে আমাদের জানানো হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আন্দোলন স্থগিত করেছি। আগামীকাল বেলা দুইটার পর আমাদের সিদ্ধান্ত জানানো হবে, সে পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করছি।’

এদিকে প্রশাসনিক ভবন অবরুদ্ধের প্রতিবাদে কার্যক্রম স্থগিত রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি। এক ফেসবুক পোস্টে প্রক্টর তাজাম্মুল হক বলেন, ‘কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়া অযৌক্তিকভাবে প্রশাসনিক ভবন অবরুদ্ধ করে রাখায় সব ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রক্টরিয়াল বডি। শিক্ষার্থীদের সাময়িক বিড়ম্বনায় আমরা দুঃখিত।’