যশোরে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে জিপিএ–৫ পেয়েছে যমজ দুই বোন অঙ্কিতা বিশ্বাস ও অনুসূয়া বিশ্বাস। একই সঙ্গে জন্ম, বেড়ে ওঠা ও লেখাপড়াও একসঙ্গেই—ফলাফলে তারই প্রতিফলন ঘটেছে বলে জানাল পরিবার ও শিক্ষকরা।
অঙ্কিতা বিশ্বাস ও অনুসূয়া বিশ্বাস যশোর সদর উপজেলার কৈখালী গ্রামের অনুকূল চন্দ্র বিশ্বাস (৪০) ও অঞ্জলী রানী বিশ্বাসের (৩২) সন্তান। তাদের বাবা মাছ ব্যবসায়ী। তিনি যশোরের মনিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন বাজার থেকে মাছ কিনে এনে যশোর সদর উপজেলার রানীবাজারে বিক্রি করেন। মা গৃহিণী।
অঙ্কিতা ও অনুসূয়ার মধ্যে অঙ্কিতা দুই মিনিটের বড়। তারা যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার মাহমুদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে।
অঙ্কিতা বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা সব সময় মা-বাবার কথা মেনে চলেছি। ঠিকমতো পড়াশোনা করেছি। অবসর সময়ে বই পড়া এবং মা-বাবার সঙ্গে গল্প করে সময় কাটিয়েছি। পরীক্ষার ফলে আমি খুশি।’
পরিবারের সদস্যরা জানান, দুই বোনের এই সাফল্যে তারা আনন্দিত এবং ভবিষ্যতে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। এ প্রসঙ্গে অনুসূয়া বিশ্বাস বলেন, ‘আমার মা-বাবা, দুই মামা এবং বিদ্যালয়ের স্যাররা আমাদের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। এ কারণেই ভালো ফল করতে পেরেছি।’
বাবা অনুকূল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘আমার যমজ দুই মেয়ে। আমি ঘুরে ঘুরে মনিরামপুরের বিভিন্ন বাজার থেকে মাছ কিনে সদর উপজেলার রানীবাজারে বিক্রি করি। এই আয় দিয়ে কোনোমতে সংসার চালাই। মেয়েদের লেখাপড়া করাই। আমার এক শ্যালক শিক্ষক আর এক শ্যালক ফল ব্যবসায়ী। তাঁরা বেশ সহায়তা করেন। এ জন্য মেয়েদের লেখাপড়া করাতে পারছি।’