নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় একটি সর্বজনীন কবরস্থানের দখল ও ব্যবহার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যেviolent সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় নারী ও শিশুসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১২০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় অন্তত ১১টি দোকান ও বাড়িঘরে ভাঙচুর করা হয়। আজ শুক্রবার সকালে উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের আমগড়া এলাকায় এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে।

আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় আটজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বাকিরা কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আমগড়া বাজারের নিকটবর্তী ১৪৪ শতক জমির ওপর নির্মিত একটি কবরস্থান গত ৮০ বছর ধরে পানেশ্বরপাড়া, আমগড়া ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ ব্যবহার করে আসছেন। তবে কবরস্থানের ব্যবস্থাপনা ও দখল নিয়ে আমগড়া ও পানেশ্বরপাড়ার বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ বিদ্যমান। পানেশ্বরপাড়ার বাসিন্দাদের দাবি, কবরস্থানের জায়গাটি তাঁদের মালিকানাধীন। বিপরীতে আমগড়ার বাসিন্দাদের দাবি, এটি সরকারি জায়গা।

সড়কের পাশে অবস্থিত এই কবরস্থানের জায়গায় কিছু দোকানপাট রয়েছে। সম্প্রতি পানেশ্বরপাড়ার লোকজন সেখানে আরও কিছু দোকানঘর নির্মাণ করতে গেলে আমগড়ার বাসিন্দারা বাধা প্রদান করেন। এই বিরোধ মেটাতে স্থানীয়ভাবে সালিশ অনুষ্ঠিত হলেও কোনো পক্ষই সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি।

আজ সকালে পানেশ্বরপাড়ার লোকজন বিরোধপূর্ণ স্থানে একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করতে গেলে আমগড়ার বাসিন্দারা বাধা দেন। কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে দুই পক্ষের কয়েকশ মানুষ লাঠিসোঁটা, ইটপাটকেল ও দেশি অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে নারী-শিশুসহ অন্তত ১২০ জন আহত হন।

কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "বেলা পৌনে ৩টা পর্যন্ত হাসপাতালে ৬৮ জন আহত রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আমগড়া গ্রামের শফিকুল ইসলাম, জীবন মিয়া, কল্পনা আক্তার, রাজীব মিয়া, পানেশ্বরপাড়ার ফারুক মিয়া, জীবন রহমানসহ গুরুতর আহত আটজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।"

সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে বলে দাবি করেন কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, "ঘটনাস্থলে এখনো পুলিশ মোতায়েন আছে।"

সংঘর্ষে অন্তত ৬০ থেকে ৭০ জন আহত হওয়া এবং বেশ কিছু দোকানপাট ও বাড়িঘরে হামলার তথ্য নিশ্চিত করে ওসি আরও জানান, "আপাতত আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে এই ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"