গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে এক একর জমির কলাবাগানে বিষাক্ত কীটনাশক স্প্রে করে সাত শতাধিক গাছ নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় কৃষক হুমায়ুন মোল্লার প্রায় চার লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) মুকসুদপুর পৌরসভার কমলাপুর গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক হুমায়ুন মোল্লার দাবি, গত ১০ আগস্ট গ্রামেরই মেহেদি শেখ ও রবি শেখকে তার কলাবাগান থেকে বের হতে দেখেন তিনি। ওই সময় তাদের সেখানে মাদক সেবন করতে নিষেধ করায় উভয়ের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয় এবং তারা তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।

হুমায়ুন মোল্লার অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সকালে বাগানে গিয়ে তিনি দেখতে পান যে রাতের আঁধারে প্রায় ৭০০টি কলাগাছে পচনশীল কীটনাশক স্প্রে করা হয়েছে। এর ফলে গাছ এবং ভেতরে থাকা কলা পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ঘটনার প্রতিকার চেয়ে তিনি মুকসুদপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

মুকসুদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, "বাগানের সাত শতাধিক কলাগাছে পচনশীল বিষ বা কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়েছে, যার কারণে গাছগুলো মরে যাচ্ছে। এতে কৃষকের প্রায় চার লাখ টাকার মতো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।"

তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগী কৃষককে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং সরকারি পর্যায় থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, কৃষকের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে হারেজ শেখের ছেলে মেহেদি শেখকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, "বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

এদিকে মুকসুদপুর উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি মিজানুর রহমান ক্ষতিগ্রস্ত কলাবাগান পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, ভুক্তভোগী কৃষকের সহায়তার বিষয়ে গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান সেলিমের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।