কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত অগ্রগতির সাথে সাথে প্রযুক্তির দুনিয়ায় প্রতিনিয়ত যুক্ত হচ্ছে নতুন বিস্ময়। এরই ধারাবাহিকতায় কম্পিউটারেই স্থানীয়ভাবে এআই এজেন্ট পরিচালনার সুযোগ করে দিতে ‘মিউজ গ্লিমার’ নামের একটি ওপেন-ওয়েট মডেল প্রকাশ করেছে মেটা। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গের ব্যক্তিগত সুপারইন্টেলিজেন্সের ভাবনা বাস্তবায়নের একটি স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা গেছে এই নতুন এআই মডেলে।
গত বছর মার্ক জাকারবার্গ মত প্রকাশ করেছিলেন যে, উন্নত এআই মডেলগুলো কেবল নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের হাতে সীমাবদ্ধ না রেখে সাধারণ মানুষের ক্ষমতায়নে ব্যবহার করা প্রয়োজন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে শক্তিশালী মডেলগুলো উন্মুক্ত করার ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। গত সোমবার প্রকাশিত এক চিঠিতে জাকারবার্গ তাঁর সেই চিন্তার কথা পুনরায় উল্লেখ করে বলেন, “সুপারইন্টেলিজেন্স সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে ব্যক্তিগত ক্ষমতায়নের এক নতুন যুগ শুরু করার সুযোগ রয়েছে।” তাঁর মতে, এর ফলে মানুষ তাদের আগ্রহ অনুযায়ী কাজ করার পাশাপাশি নিজেদের জীবনকে আগের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত করতে পারবে। মিউজ গ্লিমারের মাধ্যমে তৈরি ব্যক্তিগত এআই এজেন্টগুলো ২৪ ঘণ্টা মানুষের হয়ে সম্পর্ক উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, ক্যারিয়ার, অর্থায়ন ও গৃহস্থালি কাজ সামলাতে সহায়তা করবে। সবচেয়ে বড় প্রতিশ্রুতি হিসেবে জানানো হয়েছে, সবাই বিনা মূল্যে বা স্বল্প খরচে এই মডেলটি ব্যবহারের সুবিধা পাবেন।
জাকারবার্গের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মিউজ গ্লিমার মডেলটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যা ধাপে ধাপে জটিল কাজ সম্পাদন করতে সক্ষম এআই এজেন্ট চালাতে পারে। একটি সাধারণ জিপিইউযুক্ত ম্যাক বা পারসোনাল কম্পিউটারে সরাসরি এই মডেলটি ব্যবহার করা সম্ভব। এমনকি ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াও যেকোনো স্থানে সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করতে পারবে এই এআই মডেলটি।
তবে মিউজ গ্লিমারের সব মডেল বিনামূল্যে পাওয়া যাবে না। প্রাথমিকভাবে ছোট আকারের গ্লিমার মডেলটি ডাউনলোড করে ব্যবহার করা যাবে। নতুন এই এআই মডেল সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জাকারবার্গ জানান, মেটা ওপেন সোর্স প্রযুক্তি ব্যবহার সমর্থন করে। আর তাই মডেলটি উন্মুক্ত করতে পেরে মেটা গর্বিত।