মেহেরপুরের মুজিবনগরে অনলাইন ক্যাসিনোর শীর্ষ এজেন্ট মুর্শিদ আলম ওরফে লিপু গাজীর বাগানবাড়িতে মধ্যরাতে অভিযান চালিয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এই অভিযানে বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল ডিভাইস, ব্যাংক ও পেমেন্ট কার্ড, চেক বই, মোটরসাইকেল এবং আন্তর্জাতিক ক্যাসিনোর ভিআইপি কার্ড জব্দ করা হয়েছে। তবে সিসিটিভি ক্যামেরায় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে লিপু গাজীসহ কয়েকজন গোপন পথে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। পুলিশ তার সহযোগী আতিউজ্জামান ওরফে শিশিরকে গ্রেপ্তার করেছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) রাত পৌনে ১টা থেকে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ভোর ৬টা পর্যন্ত মুজিবনগর উপজেলার বিশ্বনাথপুর-শিবপুর সড়কের ওই বাগানবাড়ি ও আশপাশের এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। মেহেরপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি প্রদীপ কুমার সানা এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন।

বৃহস্পতিবার রাতে মেহেরপুর জেলা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই বাগানবাড়িতে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের কাছে তথ্য ছিল যে, সেখানে লিপু গাজীসহ কয়েকজন শীর্ষ অনলাইন ক্যাসিনো এজেন্ট অবস্থান করে জুয়ার সাইট পরিচালনা করছেন। কিন্তু বাগানবাড়ির আশপাশে দূরবর্তী স্থানে বসানো সিসিটিভি ক্যামেরায় পুলিশের গাড়ির উপস্থিতি দেখে তারা সরঞ্জাম ফেলে রেখে পেছনের গোপন পথ দিয়ে পালিয়ে যান।

তল্লাশিতে ডিবি পুলিশ দুটি ল্যাপটপ, একটি ট্যাব, একটি মোবাইল ফোন ও দুটি পেনড্রাইভ জব্দ করে। এছাড়া দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্যাংকের ১১টি ভিসা কার্ড, একটি রেডি-পে ভিসা কার্ড, রূপালী ব্যাংক ও উত্তরা ব্যাংকের দুটি চেক বই, একটি পাসপোর্ট, তিনটি মোটরসাইকেল এবং নগদ ৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা জিনিসের মধ্যে শ্রীলঙ্কার ‘ক্যাসিনো মেরিনা কলম্বো’র একটি ভিআইপি কার্ডও পাওয়া গেছে।

অভিযানের পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লিপু গাজীর সহযোগী আতিউজ্জামান ওরফে শিশিরকে (৩৫) মুজিবনগর উপজেলার টঙ্গি গোপালপুর গ্রামে তার শ্বশুরবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি গোপালপুর গ্রামের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আমিনুল ইসলাম ওরফে আমাই ও ফাতেমা খাতুনের ছেলে।

ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, জব্দ করা ল্যাপটপ, মোবাইল, ট্যাব ও পেনড্রাইভ ফরেনসিক পরীক্ষার পর অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম, আর্থিক লেনদেন এবং চক্রের অন্য সদস্যদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে ডিবির ওসি প্রদীপ কুমার সানা মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানোর সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালিয়ে যায়। তবে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে অনলাইন জুয়া পরিচালনায় ব্যবহৃত হতে পারে এমন বেশ কিছু ডিভাইস, ব্যাংক কার্ড ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। এগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার পর পলাতকদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।"

তিনি আরও জানান, মুর্শিদ আলম ওরফে লিপু গাজীর বিরুদ্ধে মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা ও সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক সাইবার মামলা রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি মামলায় তিনি জামিনে রয়েছেন।

এই ঘটনায় মুজিবনগর থানায় জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার আতিউজ্জামান ওরফে শিশিরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অনলাইন ক্যাসিনো ও অবৈধ জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে মেহেরপুর জেলা পুলিশ।